কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন
বাণিজ্য সহজীকরণ শীর্ষক সেমিনারে ড. মসিউর রহমান
ইত্তেফাক রিপোর্ট০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা আরো বাড়াতে হবে। বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে রপ্তানি বাড়ানোর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বাড়াতে হলে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহজীকরণঃ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এছাড়া বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে ডব্লিউটিএতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে- তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি। তিনি বলেন, এনবিআরের একার ক্ষেত্রে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব না। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত। তবে সবার সঙ্গে এনবিআরের সুসম্পর্ক আছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল-এর মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশ আসে মাত্র ৬টি পণ্য থেকে। এজন্য পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ করা খুব জরুরি। তিনি জানান, কাস্টমস আইন বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা আরো কমে আসবে।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ব্যবসা পরিচালনায় স্তর কমানো, মানব সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় সাড়ে ১৬ শতাংশ কমবে। বার্ষিক রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার বাড়বে। জিডিপিতে  বৈদেশিক বিনিয়োগের অবদান আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

সেমিনারে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশের স্থলবন্দরগুলোর সেবার মান আরও বৃদ্ধি করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

বিকেএমই’র প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য টেকসই উন্নয়ন দরকার। আর টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুত্ পাচ্ছি না। বিষয়টি সরকারের ভাবা উচিত। তাছাড়া সমুদ্র ও স্থলবন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ইউএসএআইডি-এর ডেপুটি চিফ অফ পার্টি ড. খাইয়রুজ্জামান মজুমদার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণের জন্য পণ্য সরবরাহে সাপ্লাই চেইনের মধ্যে সমন্বয় সাধন, ট্যারিফ কাঠামো সহজীকরণ, এলসি বিহীন আর্থিক লেনদেন কার্যক্রম গ্রহণে উত্সাহিতকরণ এবং বন্দরগুলোতে পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন