সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কমেছে
ইত্তেফাক রিপোর্ট০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কমেছে। এসময়ে নিট বিক্রি হয়েছে নয় হাজার ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি ছিল নয়  হাজার ৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। একক মাস হিসাবে গত অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে দুই হাজার ৩৫২ কোটি টাকা তিন লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ৯৬ কোটি টাকা  বেশি।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত চার মাসে সঞ্চয়পত্রের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে ছয় হাজার ২২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে তিন হাজার ৫৮০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। ওই মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৫২৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে তিন হাজার ১৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে নীট বিনিয়োগ এসেছে এক হাজার ৩৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

জানা গেছে, গেল চার মাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৪৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ১৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে এক হাজার ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঋণের বোঝা কমাতে সরকার ‘বাধ্য হয়েই’ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেয়। ২৩ মের আগ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনলে ১৩ দশমিক ৪৫ ও ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যেত। সুদের হার কমানোর পর এখন কেউ পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনলে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। আর পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে সুদ হার ঠিক করা হয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সুদ হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ করা হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

জানা গেছে, আশার তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হওয়ায় গত অর্থবছর জুড়েই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার চাহিদা ছিল কম। গত অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকার নিট ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা নিতে হয়নি। অর্থবছর শেষে ঋণ না বেড়ে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা কমে সরকারের পুঞ্জিভূত ব্যাংক ঋণ নেমে আসে এক লাখ ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন