খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের এলসি কমেছে
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে। তবে আগের অর্থবছরের চেয়ে এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। আগের অর্থবছরে এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল চার দশমিক ৬২ শতাংশ, সেখানে সমাপ্ত অর্থবছরে হয়েছে মাত্র দশমিক ৬২ শতাংশ। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের এলসি অস্বাভাবিক কমায় সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে চার হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। যা আগের অর্থবছর ২০১৪-১৫ এর চেয়ে দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে চার হাজার ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে দুই দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি ছিল। অন্যদিকে গেল অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে চার হাজার ৭৬ কোটি ডলার। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চার দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল তিন হাজার ৮৪৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে তিন দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার অনেক কমে গেছে। শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি ঋণপত্র খোলার হার বাড়লেও তার গতি কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল ও গমের আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৭৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্যপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয় ১১১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ১৪৯ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

এ সময়ে পেট্রোলিয়াম বা জ্বালানি তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে ২১৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ পণ্যটির এলসি খোলা হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ২৮ লাখ ডলারের। এ সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ পণ্যটির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৩৪৬ কোটি ২৪ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ পণ্যটির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছিল ৩২ দশমিক ৮৬ ও ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৪৮০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর এ সময়ে ৩৫৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি নিষ্পত্তি হয়েছে। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৩০৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এ হিসাবে মূলধনী যন্ত্রপাতির নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছিল ১২ দশমিক ২৯ ও ২২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামালের আমদানি ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে চার দশমিক ২৩ ও তিন দশমিক ২১ শতাংশ। এ সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৬৪২ কোটি ৮১ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৬১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। আর এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ৫৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৫১৮ কোটি ১২ লাখ ডলার।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন