রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার অব্যবহূত জমিতে যৌথ বিনিয়োগে শিল্প গড়ার সিদ্ধান্ত
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানার অব্যবহূত জমিতে যৌথ বিনিয়োগে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের উপযোগী নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী কমিটির (ইসিএনসিআইডি) সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে সভাপতিত্ব করেন। দেশব্যাপী পরিকল্পিত শিল্পায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের (এনসিআইডি) সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প কারখানায় ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রণোদনা প্রদান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রসার, পরিবেশবান্ধব জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প স্থাপনে নীতি সহায়তা প্রদান, জাহাজ ভাঙা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে বিসিকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, প্যাকেজিং আইন প্রণয়ন, দেশীয় শিল্পের স্বার্থে এন্টি ডাম্পিং মেকানিজম গড়ে তোলাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের  অনুকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে দ্রুত একটি জাহাজ নির্মাণ নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  

সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প-কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি গৃহস্থালি ও পরিবহনে জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার ও এলএনজি ব্যবহার করে শুধুমাত্র শিল্প-কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেন। বগুড়ায় কৃষি যন্ত্রপাতি উত্পাদনের লক্ষ্যে আধুনিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানার অব্যবহূত জমিতে যৌথ বিনিয়োগে শিল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে বহুমুখি শিল্পপণ্য উত্পাদনের পাশাপাশি উত্পাদিত পণ্যে মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে বলে সভায় জানানো হয়।

আমির হোসেন আমু বলেন, শিল্প বিকাশের পথে অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাটজাত পণ্যের বহুমুখিকরণের পাশাপাশি চিনি শিল্পে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে চিনিকলগুলোর উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য উত্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চিনিকলগুলোতে অমৌসুমে ‘র’ সুগার থেকে পরিশোধিত চিনি উত্পাদন এবং সুগার বিট ব্যবহার করে চিনি উত্পাদনের কাজ চলছে। তিনি এলাকাভিত্তিক শিল্প কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি, কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, জ্বালানি বিভাগের সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. সিরাজুল হক খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের  প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন