ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ রয়েছে :এমসিসিআই
সবার জন্য ১৫% হারে ভ্যাট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হবে
ইত্তেফাক রিপোর্ট০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। গতকাল মতিঝিলে নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এমসিসিআই’র সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির এ উদ্বেগের কথা জানিয়ে আইনটি স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন আইনে ভ্যাট অব্যাহতি ব্যবস্থা বাতিল করা, প্যাকেজ ভ্যাট ও সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্যের (ট্রাঙ্কেটেড রেট) ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়া অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেই সঙ্গে সবার উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

‘নতুন ভ্যাট আইন ও বিধি : বাস্তবায়নের পথনকশা’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর। অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ভ্যাট আইনের বেশকিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ভ্যাট নীতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। যাতে ব্যবসায়ীরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারে। সব ব্যবসায়ীর প্রতি ভ্যাট আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক আব্দুল খালেক নতুন আইনের বেশকিছু জটিলতা ও অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এ সময় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও আইনটির বিভিন্ন ধারা, উপধারা ও বিধির জটিলতা ও অসঙ্গতি তুলে ধরেন।

এ সময় এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন নতুন ভ্যাট আইনের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন। বিশেষত মূল্য ঘোষণা উঠে যাওয়া, করদাতা ও কর কর্মকর্তার যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরে এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে এনবিআরের প্রস্তুতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৫ মার্চের মধ্যে বড় আকারে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর আগামী ১৫ জুনের মধ্যে অনলাইনে প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থাও কার্যকর হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হবে বলে আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে সবার ক্ষেত্রে আইনটি একইভাবে প্রয়োগ করা হবে জানিয়ে এক্ষেত্রে এমসিসিআইয়ের পরামর্শ বিবেচনা করা হবে বলে জানান। প্যাকেজ ভ্যাট বাতিল ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা আইনে নেই। টার্নওভার ভ্যাট হিসেবেই আদায় করা হয়ে থাকে। নতুন আইনের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত (৩০ লাখ টাকা) টার্নওভার বা বার্ষিক বিক্রি যে কোনো ধরনের ভ্যাটের আওতামুক্ত।

এ সময় অন্যদের মধ্যে এমসিসিআইয়ের ট্যারিফ ও ট্যাক্সেশন সাব কমিটির চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সরকার নতুন ভ্যাট আইন পাস করে। নতুন আইনে সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান ভ্যাট আইনের বেশকিছু ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন। ফলে আইনটি পাসের তিন বছর পর থেকে এটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখনো কার্যকর করা যায় নি। তবে সর্বশেষ গত বাজেটে আগামী জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এদিকে বিদ্যমান প্যাকেজ ভ্যাটের হার কমানো ও প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা আইনে স্থায়ীভাবে রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়ীরা। এ দাবিতে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরীর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটও পালন করেছেন। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিও প্রায় একই দাবিতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা ১৫ শতাংশের বদলে সাত শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করে নতুন আইন কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছেন। গতকাল মঙ্গলবারও এফবিসিসিআইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ ভ্যাটের হার সাত শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন