কর্মকর্তাদের জন্য অস্ত্র ও আলাদা নিরাপত্তা বাহিনী চায় এনবিআর
বিশদভাবে চিন্তা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের ‘কোকেন আমদানির ঘটনায় তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছিল’
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষায়িত ও আলাদা নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ অন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সশস্ত্র ফোর্স গঠন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য অস্ত্র বহন বা ব্যবহারের অনুমতিও চায় সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশেষজ্ঞরা এ ধরণের আলাদা ও বিশেষায়িত ফোর্স তৈরির পূর্বে আরো বিশদভাবে চিন্তা করার জন্য এনবিআরকে পরামর্শ দেন। এছাড়া এ ধরণের ফোর্স কি সব সংস্থার সমন্বয়ে হবে, না আলাদা কোন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে গঠিত হবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। তবে এম এ মান্নান বাস্তবভিত্তিক ও যৌক্তিক যে কোন প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আইনের আওতায় সব ধরণের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

সভার শুরুতে এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে যারা অভ্যস্ত, সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এনবিআরের একজন ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা তার বনানীর বাসভবনের সামনে সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশব্যাপী এনবিআরের কর্মকর্তারা এ ধরণের আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।

মূল নিবন্ধ উপস্থাপনকালে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজস্ব আদায় ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। এ ধরণের অনেক ঘটনার পেছনে বিশাল শক্তিশালী গ্রুপ থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে চট্টগ্রামে আলোচিত কোকেন আটকের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোকেন আমদানিতে তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছিল। অন্যদিকে আপন জুয়েলার্সের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা এবং ওইসব অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অন্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আলাদাভাবে সশস্ত্র ফোর্স গঠন করার প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান সব বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে সমন্বিত বাহিনীর তৈরি না করে বরং একটি নির্দিষ্ট বাহিনীর সদস্যর সমন্বয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সমন্বিত বাহিনীতে অনেক সমস্যা থাকে। পুলিশ বাহিনী থেকে তারা সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এনবিআরে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ পুলিশের হাতে থাকার পক্ষে মত দেন তিনি ।

তার এমন বক্তব্য নিয়ে মতভেদ তৈরি হয় উপস্থিত অন্যান্য বাহিনীর কোন কোন কর্মকর্তার মধ্যে। তারা সমন্বিতভাবেই এ ধরণের বিশেষায়িত বাহিনী তৈরির পক্ষে মত দেন। তবে কেউ কেউ এর সুবিধা ও অসুবিধা - উভয় দিক নিয়েই মত প্রকাশ করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, এ ধরণের ফোর্সের সদস্যরা অনেক সময় ধরে আনতে বললে বেঁধে নিয়ে আসেন। এ জন্য এ ধরণের একটি বাহিনী গঠনের আগে আরো বিশদভাবে চিন্তার অবকাশ রয়েছে।

বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসনাত রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ঢালাওভাবে অস্ত্র সরবরাহ করা ঠিক হবেনা বলে মত দেন। তিনি বলেন, এর আগে বিষয়টি নিয়ে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। তবে পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে ‘এনবিআর পুলিশ’ নামে একটি বাহিনী গঠন করা যায়।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রহমান চৌধুরী রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনা গিয়েছে কিনা, সেটি পরিস্কার করার উপর গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে কাজে লাগানো এবং যে কোন কাজ সমন্বিতভাবে করার উপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় এনবিআরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকি তুলে ধরে বিশেষ বাহিনী গঠনের পক্ষে মত দেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন