ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সম্মানিত করে গেছেন আনিসুল হক
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সম্মানিত করে গেছেন আনিসুল হক

স্মরণসভায় বক্তারা

একজন ব্যবসায়ী নেতা হয়েও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে সাফল্য দেখানোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সম্মানিত করে গেছেন আনিসুল হক। দেখিয়ে গেছেন কীভাবে কাজ করতে হয়। তিনিই ঢাকার সবচেয়ে সফল মেয়র। দেশব্যাপী এমন আরো অনেক আনিসুল হক তৈরি হওয়া দরকার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্মরণসভায় এভাবেই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও কর্মময় জীবনকে স্মরণ করলেন ব্যবসায়ী নেতারা। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে কাজ করে আসা তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা স্বপ্নবাজ, কর্মচঞ্চল ও উদার আনিসুল হককে নিয়ে নিজেদের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ আয়োজিত ওই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসা আর সাংস্কৃতিক অঙ্গণে সফল ছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়র হিসেবে যখন তার নাম প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, তখন আমাদের কারো কারো মধ্যে সন্দেহ ছিলো, মেয়র হিসেবে কি তিনি সফল হবেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীর সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ঢাকার এযাবতকালের সবচেয়ে সফল মেয়র হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। দেখিয়ে গেছেন, কীভাবে কাজ করতে হয়। সুযোগ পেলে আমরাও পারি। এর মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সম্মানিত করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর লন্ডনে রিজেন্ট পার্কে জানাযায় যত মানুষ এসেছে, তা এর আগে কখনো হয়নি।

আনিসুল হকের অসুস্থতার পর মৃত্যু পর্যন্ত চার মাস সময়ের প্রায় পুরোটা সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রুবানা হক। তিনি বলেন, লন্ডনে যাওয়ার পথে ঢাকায় এয়ারপোর্টে তার হাঁটতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমাদের কাঁধে ভর দিয়ে হেঁটেছেন। কিন্তু হুইল চেয়ারে বসেননি। তিনি চাননি, তার জীবন হুইলচেয়ারে শেষ হোক। চিকিত্সার পুরোটা সময় ঘুমন্ত ছিলেন। কেবল একদিন জেগেছিলেন। জনগণের একজন কর্মী হিসেবে (মেয়র) না হয়ে শিল্পপতি হিসেবে মারা গেলে এত ভালোবাসায় সিক্ত হতে পারতেন না। তাকে এ সুযোগ করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রুবানা হক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আনিস আমাদের শিখিয়েছেন উদার হতে। তিনি আমাদের মাঝে আছেন। কোন না কোনভাবে তিনি ফিরে আসবেন। এ সময় ‘আনিসুল হক ফাউন্ডেশন’ এর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা, সাংবাদিকদের সম্মাননা দেওয়া হবে।

এ সময় আনিসুল হকের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার কর্মময় জীবনের উপর স্মৃতিচারণ করেন।  এফবিসিসিআিইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, নিজের ব্যস্ততাকে বাদ দিয়ে অন্যের সমস্যা সমাধানে সময় দিয়েছেন, চেষ্টা করেছেন - এই ছিলেন আনিস ভাই। তার কাজকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কাজ করাই হবে তাকে স্মরণ কিংবা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে বাসযোগ্য ও আধুনিক হিসেবে তৈরি করতে বিরামহীন চেষ্টা করে গেছেন। আনিসুল হকের স্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, হঠাত্ ঘুমের মধ্যে বলে উঠতেন, ওটা পরিস্কার করতে হবে, ওটা ভাঙ্গতে হবে। এমন চিন্তা অবিশ্বাস্য।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোন একটি স্থান বা রাস্তার নাম আনিসুল হকের নামে নামকরনের দাবি জানান সরকারের প্রতি।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ  সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, আনিসুর রহমান সিনহা, এস এম ফজলুল হক, আতিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির। স্মরণসভা শেষে তার জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন