আয়কর ফাইল অডিটের নামে হয়রানির অভিযোগ কর আইনজীবীদের
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আদেশ নিয়েও প্রশ্ন

 g ইত্তেফাক রিপোর্ট

ট্যাক্স অডিট ও আয়কর ফাইল রিওপেনের (পূন:উন্মেচন) নামে করদাতাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আয়কর আইনজীবীরা। এক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত এক সভায় তারা এসব কথা বলেন। এনবিআর ও বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএলও) আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এ সময় আয়কর সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কর আপীলাত ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে আদেশ দিতে পারে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আয়কর আইনজীবীরা।

বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশের ৯৩ ধারায় আয়কর ফাইল পূন:উন্মোচনের বিষয়ে বলা আছে। কিন্তু কর আইনজীবীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কিংবা কেবল করদাতাকে হয়রানির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়।

বিটিএলও’র সভাপতি মনিরুল হুদা বলেন, কর ফাইল অডিটের উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্ করদাতাদের ফাইল। কিন্তু এখন অপেক্ষাকৃত ছোট করদাতারা হচ্ছেন অডিটের মূল টার্গেট। আবার অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ অডিট ছাড়াই কর ফাইল পূণরায় খোলা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে একেক কর কমিশনার একেক ‘ফরমান’ জারি করেন। এসব ফাইল ১৮ হাত ঘুরে যায়। এজন্য এনবিআর অকার্যকর হয়ে গেছে।  কর আইনজীবী ছাড়া কর সংক্রান্ত কার্যক্রম অন্যদের মাধ্যমে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন কোন কোন কর কমিশনারের ড্রাইভারও কর সংক্রান্ত কাজ করছেন।  আয়করের ৭৫ শতাংশ কাজই মূলত অন্যরা করছেন। এ বিষয়ে এনবিআরকে শৃঙ্খলা আনার তাগিদ দেন তিনি।

আলোচনায় এনবিআরের কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ এনবিআরের কমিশনারদের নিয়ে গঠিত হওয়ায় তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন কিনা সে প্রশ্নও তুলেছেন কর আইনজীবীরা। তারা বলেন, ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা এনবিআরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বলে স্বাধীনভবে বিচারকাজ চালাতে পারেন না। মনিরুল হুদা বলেন, কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চের সদস্য হলেন এনবিআরের দুইজন কমিশনার। তারা এনবিআরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিটিএলও’র সাবেক সভাপতি গোলাম সারোয়ার বলেন, কর ট্রাইব্যুনালে জুডিশিয়ারির (বিচার ব্যবস্থা) অভাব দেখি। এটি দূর করা দরকার।

এ সময় তারা গত মার্চে কর আইনজীবীদের সঙ্গে এনবিআরের বৈঠক শেষে আট দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান। এগুলো হলো ফাঁকা আদেশপত্রে করদাতা কিংবা প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর না করানো, নোটিশ আইনানুগভাবে জারি নিশ্চিত করা, চতূর্থ শ্রেনীর ড্রেস কোড নিশ্চিত করা, অডিট সিলেকশনে সার্কেল কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া, ফাইল পুন:উন্মোচন সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারা সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করা, কর আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং ১৫ শতাংশের বেশি আয় প্রদর্শনকারী করদাতাকে অডিটের আওতা থেকে মুক্ত রাখা। কিন্তু এসব নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, একসময় করের আওতায় আসা নিয়ে করদাতাদের মধ্যে উত্কণ্ঠা থাকলেও বর্তমানে সে ভয় কেটে গেছে। আয়কর বিভাগ নিয়ে এখন আর কোন ভীতি নেই। কর আইনজীবীদের সঙ্গে একসময় দুরত্ব থাকলেও বর্তমানে সেই দুরত্ব নেই। সবাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পরিবেশে কাজ করছেন। ট্যাক্স ট্রাইব্যুনাল ইস্যুতে বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ স্বাধীন। ট্রাইব্যুনালের উপর এনবিআরের কোনো প্রভাব নেই।

এনবিআর সদস্য সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় বিটিএলও ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এনবিআরের সিনিয়র কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন