এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া টেকসই করতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে
সিপিডির সংলাপে বক্তারা
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া টেকসই  করতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে

সিপিডির সংলাপে বক্তারা

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলতি বছর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা বা এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার প্রথম ধাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এলডিসির সুযোগ অব্যাহত থকাবে। এর পর জাতিসংঘ আরো তিন বছর পর্যবেক্ষণ করবে। পরবর্তীতে চুড়ান্ত ভাবে উন্নয়নশীল দেশ হলে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা হারানো, বৈদেশিক ঋণের সুদ হার বৃদ্ধিসহ নান চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। এজন্য আগমী দশ বছরের মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে হবে। টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সুশাসন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। গতকাল গুলশানের একটি মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডয়ালগের (সিপিডি) আয়োজনে এলডিসি থেকে উত্তোরণে বাংলাদেশের অবস্থান, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। এতে ৪টি সেশনে এলডিসি থেকে উত্তোরণের বাংলাদেশের প্রস্তুতী, ঝুঁকি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। উদ্বোধনী সেশনে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সঞ্চালনায় মূল উপস্থাপনা পেশ করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্ট্রাচার্য। বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ইউএনডিপির আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপো। অন্যন্য সেশনে বক্তব্য দেন, তত্ত্বাবধায়ক সকরারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিন প্রমূখ।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এলডিসি থেকে প্রকৃত অর্থে ভালোভাবে উত্তরণের বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করছে গুণগত শাসন ব্যবস্থা ও নীতি প্রণয়নের দক্ষতার ওপর। সর্বস্তরে এর বিস্তার ঘটাতে হবে। একজন কৃষকের উত্পাদিত পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে পৌছানো পর্যন্ত তাতে যে মূল্য সংযোজন হয়, তার একটি অংশ যাতে কৃষক পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের ক্ষেত্রেও রপ্তানি মূল্যের একটি অংশ যাতে শ্রমিকরা পায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আর সুশাসনের বাতাবরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করবে, তাদের সঙ্গে দর কষাকষি করে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে উল্লখিত প্রত্যেকটি বিষয় নির্ভর করছে শাসন ব্যবস্থার গুণগত মান ও টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর। যাতে মানুষকে কোন ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভীতির মধ্যে বসবাস করতে না হয় এবং তার নির্বিঘ্নে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো হলো— সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়ন্ত্রণ করা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মাঝে পৌছে দেওয়া। এর পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দুর্নীতিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, গত এক দশক ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবাহ স্থবির হয়ে আছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের উন্নতি করতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উত্পাদনশীল খাতে যায় সে বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে দক্ষ শ্রম শক্তি গড়ে তুলতে হবে। ৮০ ভাগ রপ্তানি পণ্যই তৈরি পোশাক নির্ভর। এজন্য রপ্তানি পণ্যের বহুমূখীকরণ করতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এটি ইতিহাসের একটি অনন্য ঘটনা। কেননা এর আগে যারা এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেছে তারা ছিলো আকারে ছোট, জনসংখ্যার দিকথেকেও ছোট দেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেসকল দেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেছে পরবর্তীতে তাদের রেমিট্যান্স, রপ্তানিসহ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেগেছে। ফলে তাদের আর্থিক খাতে চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়েছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলেও এর সুবিধাগুলো ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাওয়া যাবে। এর পর ভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরী হবে। এলডিসি থেকে উত্তোরণে আগামী দশ বছরের জন্য উত্তোরণকালীন কৌশল তৈরী করতে হবে। কেনা দেশে বৈষম্য বাড়ছে। দেশে সুশাসন থাকলে এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সুযোগ হিসাবে দেখা দেবে। আর উত্তরণকে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে হলে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে জলবায়ু পরিবর্তণজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা, রেহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা ছাড়াও দেশের অর্থনীতিকে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ঐক্যমত না থাকলে, সুশাসন না থাকলে উন্নয়নকে টেকসই করা যায় না।

পররাষ্ট্র সচিক সহিদুল হক বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্ব পরিস্থিতি। বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতি এখন খুবই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিভাবে স্থিতিশীল রাখাই এখন বড়  চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে রোহিঙ্গা সংকট বড় আকারে এসেছে। ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বিনিয়োগ এবং উত্পাদনশীতা বৃদ্ধির প্রতি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তোরণের ফলে স্বল্প সুদে ঋণ পাবে না বাংলাদেশ। কিন্তু অর্থের আরো নতুন নতুন উত্স সেসময় তৈরী হবে। অবশ্য এখনই বাংলাদেশ কিছু ঋণ উচ্চ সুদে নেওয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপট ছাড়াও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। বাংলাদেশকে এসব ঝুঁকি বিবেচনা করেই সামনে এগুতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন