বাণিজ্য যুদ্ধ শেষ পরিণতি কী
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
g ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের মত বাণিজ্য যুদ্ধও কারো জন্য সুফল বয়ে আনবে না। উল্টো ক্ষতিতে পড়বে চায়না, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ। বেড়ে যাবে পণ্যের মূল্য এবং সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাণিজ্যযুদ্ধের শুরুটা হচ্ছে আমেরিকার হাত ধরে এবং হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শুল্ক। কিন্তু অন্যদের কাছেও যে হাতিয়ার আছে সেটা হয়ত বুঝতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।

৮০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে ইস্পাতের উপর ২৫ শতাংশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে ইইউ থেকে আমদানিকরা সকল গাড়ীর উপর ২৫ শতাংশ হারেশুল্ক আদায় করা হবে বলেও দেশটি ঘোষণা করেছে। নতুন এ পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে গাড়ীর দাম অনেক বেড়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইইউ। যার ক্ষতির ভাগ কিছুটা হলেও বহন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের।

সাধারণত, ইইউ এর গাড়ী রপ্তানির বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। ইইউ ২০১৬ সালে ১৯২ বিলিয়ন ইউরো’র গাড়ী রপ্তানি করে, যেখানে চায়নার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ইইউর গাড়ী রপ্তানির অর্ধেকটাই জার্মানীদের দখলে। এ নতুন শুল্ক জার্মানীদের গাড়ী শিল্পতে একটি বড় আঘাত হানবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, শুল্কের আঁঁচ ইউরোপের গায়ে লাগলে আমরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। তার আশঙ্কা, এতে সারা বিশ্বের শিল্প-বানিজ্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। চাকরি হারাবেন হাজারো মানুষ। এ কথার উপর ভিত্তি করে পাল্টা আঘাত হানতে যাচ্ছে ইইউ। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর আমদানিকরা তিন বিলিয়ন ইউরোর পণ্যের উপর ২৫% হারে শুল্ক আদায় করবে। এর পাশাপাশি শুল্ক আদায়ের জন্য তারা তৈরি করেছে আরো ১০০ টি পণ্যের তালিকা।

এ শুল্ক আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য বিধানগুলোর কারণে এ গোষ্ঠির সাথে মার্কিন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করাটা প্রায় অসম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাত রপ্তানি করে কানাডা। দেশটি বলছে, এ শুল্ক উভয় দেশকেই ক্ষতিগ্রস্থ করবে। কানাডা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার মেটি্রক টন অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানি করে। ঠিক একই ভাবে তারা প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন ইস্পাত রপ্তানি করে। এ কারণে এ শুল্ক কানাডাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলে দেবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন