টাকার খেলা
টাকার খেলা
বিশ্বের জনপ্রিয় খেলাধুলার সাথে এখন টাকার অঙ্কের পরিমাপও বেশ আলোচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাইজমানির পরিমাণ আকাশ ছোঁয়া। কারও ব্যক্তিগত আয় ছাড়িয়ে যায় টপ বিলিয়নারকেও। তাই এখন খেলে টাকা আয় নয় বরং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কিছু খেলা চড়া স্পন্সরের গুণে ‘টাকার খেলায়’ পরিণত হয়েছে। সেই গল্প নিয়েই এবারের ভিন্ন চোখের বিশেষ ফিচার।...লিখেছেন নাদিয়া নাহরিন রহমান

ধনী ক্রিকেটার ধোনি

টানা সপ্তমবারের মতো শীর্ষ ধনী ক্রিকেটারদের তালিকার এক নম্বর জায়গাটি ভারতের ওয়ানডে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির দখলে। ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার উপার্জন করে শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থানটা দখল করে নিয়েছেন এই উইকেট কিপার। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে আয় করেছেন ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ক্রিকেট খেলে আয় করেছেন ৩৫ লাখ ডলার। ২০০৯ সালের পর থেকে এই অবস্থান থেকে তাকে পেছনে ফেলতে পারেননি কেউ। জাতীয় দলের খেলা ছাড়াও ধোনির এই আয়ের পেছনে আইপিএলের বড় ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশকে ছাপিয়ে ব্যয়বহুল ক্রিকেটের আসর হিসেবে সবার ওপরে উঠে আসে আইপিএলের নাম। এই ধরণের আসরের জন্য দু’হাত ভরে খরচ করে যাচ্ছে ক্লাব ফ্রাঞ্চাইজিরা। আর সে কারণেই বিশ্বের ধনী ক্রিকেটারের তালিকায় ওপরের দিকে থাকছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররাই। বর্তমানে শীর্ষ দশের ছয়জনই ভারতের ক্রিকেটার। তালিকায় ধোনি ছাড়া আরও রয়েছেন বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, গৌতম গম্ভীর ও বীরেন্দর শেবাগ। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে শহীদ আফ্রিদি রয়েছেন শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র প্রতিনিধি ক্রিস গেইল। বাকি দু’জন অস্ট্রেলিয়ান মাইকেল ক্লার্ক ও শেন ওয়াটসন।

 

সি আর সেভেন! বিলিয়ন ডলার ম্যান!

ব্যালন ডি’ওর প্রাপ্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো! তার আয় ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদের সেরা তারকাদের একজন। ফিফার বর্ষসেরা খেতাব জেতা রোনালদোর আয় শুধু ফুটবল খেলেই আসে না, এর সঙ্গে যোগ হয় বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল বিজনেস কোম্পানির বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসের মতে, রোনালদোর খেলা বাবদ আয় হয় ৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আসে অন্যান্য খাত থেকে। পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার বর্তমানে স্পেনে বসবাস করছেন। সি আর সেভেন নামে পরিচিত রোনালদো ২০১৩ সালেই বিশ্বের শীর্ষ আয়ের তারকা অ্যাথলেট হিসেবে নাম লেখান। গোলের এই খেলায় এক প্রকার অপ্রতিরোধ্য এ তারকা ফুটবলার রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। যে কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচে ৫ বছরের জন্য নিজেদের করে রেখেছে। চ্যাম্পিয়নশীপ টাইটেল জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান ভরসা রোনালদোই।

 

টেনিস কোর্ট থেকে র্যাম্পের রাণী শারাপোভা

রাশিয়ান টেনিস খেলোয়াড় মারিয়া শারাপোভা। তার নামের সাথে ‘গ­্যামার’ শব্দটাও জড়িয়ে থাকে। চারবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যাম সিঙ্গেল চ্যাম্পিয়ন এবং তিনবার রানারআপ হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। শুধু টেনিস কোর্টে নয়, দেখা গেল কোর্টের বাইরেও তার খ্যাতি। সম্প্রতি ম্যাগাজিন ফোর্বসের করা এক জরিপ অনুযায়ী আয়ের দিক থেকে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন শারাপোভা। এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত শারাপোভা আয় করেছেন মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতার পর বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর থেকে তার আয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও ২০১১ সালে প্রায় ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে সুগারপোভা কোম্পানি গঠন করেন শারাপোভা। প্রায় ১৫টি ক্যান্ডি ও মিষ্টান্ন জাতীয় পণ্য তৈরি হয় এখানে। প্রতিটি প্যাকেটের দাম ৫ ডলার। প্রথম বছরে ১৮ লাখ সুগারপোভার প্যাকেট বিক্রি হয়েছে। রাশিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ব্র্যান্ডটির প্রসারে জোর দিচ্ছেন শারাপোভা।

বড়লোকের খেলার বড়লোক! টাইগার উডস!

চলতি বছর টাইগার উডসের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঝড় বয়ে যাবার পাশাপাশি বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও এই বছরের ধনী খেলোয়াড়দের মধ্যে তার অবস্থান সবার ওপরে। গলফে তার বেতন ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ বছর আয় করেছেন প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালের শীর্ষ ধনী খেলোয়াড়দের এই জরিপের তালিকায় গলফ খেলোয়াড়দের মাঝে তার অবস্থান সবার ওপরে।

বাস্কেট বলের কোবে ব্রায়ান্ট

এনবিএ বাস্কেট বলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পারিশ্রমিক প্রাপ্ত খেলোয়াড় হচ্ছেন কোবে ব্রায়ান্ট। অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠে বাস্কেটে বল গলানোর জন্য বিখ্যাত এই সুপারস্টার আয় করেছেন ১৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং তার বেতন ছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বার্ষিক আয়ের পরিমাপের দিক থেকে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী বাস্কেট বল খেলোয়াড়।

ফেড এক্স!

সুইস তারকা রজার ফেদেরার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে এ বছর সর্বোচ্চ আয়ের দিক থেকে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন। খবর ফোর্বস ম্যাগাজিনের। ৩৩ বছর বয়সী এ কিংবদন্তী সুইস টেনিস তারকা ২০১৩ সালের জুনের পর থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত আয় করেছেন প্রায় ৫৬.২ মিলিয়ন ডলার। রোলেক্স এবং নাইকির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ফেদেরার তাদের কাছ থেকে আয় করেছেন ৪০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও অন্যান্য স্পন্সর প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আয় করেন ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড। ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রকাশিত এ তালিকায় দুই নম্বরে আছেন আরেক টেনিস তারকা রাফায়েন নাদাল। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচ।

ফ্যাশন আইকন বেকহাম!

বেশিরভাগ ম্যাচেই একাদশে জায়গা হয় না তার। বেঞ্চে বসেই সময় কাটাতে হয় সাধারণত। কিন্তু ডেভিড বেকহ্যাম বলে কথা। এ নামটার ব্র্যান্ড ভেল্যু যে অনেক। বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে বসে কাটাতে হলেও প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের তারকা ফুটবলার এবং বিশ্ব ফুটবলের ফ্যাশন আইকন ডেভিড বেকহ্যাম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারের খেতাব অর্জন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তার সর্বমোট আয় ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে তিনি বিখ্যাত ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা শুরু করেন। তিনি কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন যেগুলো হলো ‘গোল-২’, ‘লিভিং দ্য ড্রিম ইন ২০০৮’। তার নিট বেতন ৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং সানডে টাইমসের ধনীর তালিকায় তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাকিটা বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য খাত থেকে।

অর্থেও গতি এনেছেন লাইটনিং বোল্ট!

১০,০০০ পাউন্ড ভাঙালে বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় কম করে হলেও সাড়ে ১২ লাখ টাকা। হ্যাঁ, প্রতি সেকেন্ডে এ পরিমাণ অর্থই আয় করতে যাচ্ছেন উসাইন বোল্ট। জ্যামাইকান এ দৌড়বিদের আয় যে এমনই। একদা এই দৌড়বিদ হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার। ফোর্বসের হিসেব অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার। যার বেশিরভাগই এসেছে বিভিন্ন স্পন্সরশীপ চুক্তি থেকে। ফোর্বস সাময়িকীর সঙ্গে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বোল্ট জানিয়েছেন, জীবনে নাকি তিনি খুব বেশি সাফল্য লাভ করতে পারেননি। কেননা তিনি নাকি খুব অলস প্রকৃতির মানুষ। বরাবরের মতো খামখেয়ালী স্বভাবের বোল্ট বলেছেন, ছোটবেলায় খেলা ছাড়া আর কোনোকিছুই তিনি চিন্তা করতে পারতেন না।

সম্প্রতি এই গতিমানব ক্রিকেটের নেশায় নামটা লিখিয়েই ফেলেছেন ক্রিকেটারের খাতায়!

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন