ক্ষতপূরণ
৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ইং
ক্ষতপূরণ
 ‘রানা প্লাজা’, গত তিন বছর ধরেই একটি আতঙ্কিত নাম। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর এখনো সেই ক্ষত রয়ে গেছে দুর্ঘটনায় গ্রাস হওয়া মানুষদের মাঝে। অনেকেই হয়তো সেই ক্ষতের কথা ভুলে শুরু করেছেন নতুন করে জীবন। জীবনের পথচলার সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো ভুলে ভেঙেচুরে আবারো ঢেলে সাজাচ্ছেন জীবনের গল্পগুলো। আবার কারো সেই সময়গুলোর কথা মনে পড়লে এখনো চোখের কোণে চলে যায় হাত। জীবনের সমীকরণগুলো হয়তো এমনই। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর হয়ে গেল। প্রতিবছরের মতো এ বছরও সেই স্থানে রিপোর্ট করতে গেছেন অনেক সাংবাদিকই। জেনেছেন সেখানকার বর্তমান অবস্থা। কথা বলেছেন ক্ষতিগ্রস্থ সেই মানুষগুলোর সাথে। সেই কথাগুলোই ভিন্ন চোখের কাছে বলেছেন এটিএন নিউজের দু’জন সিনিয়র রিপোর্টার

রেজওয়ান ফয়েজ ও আশিকুর রহমান অপু।

‘রানা প্লাজা’ এখন পরিত্যক্ত স্থান

রানা প্লাজার এখনকার অবস্থা পুরোটাই পরিত্যক্ত। দেখলে বোঝার উপায় নেই এই জায়গাটায় এক সময় কোনো বড় বিল্ডিং-এর অস্তিত্ব ছিল। আশেপাশে বাজার থাকলেও রানা প্লাজার জায়গাটা অনেক সুনসান। কোনো কার্যক্রমই নেই জায়গাটা নিয়ে। তবে সেখানে মিনার-এর মতো একটি জিনিস তৈরি করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থদের স্মরণ করে।

 

২৪ এপ্রিল অনেকেই আসেন ‘রানা প্লাজা’র সেই স্থানে

এখনো অনেকেই ২৪ এপ্রিলে রানা প্লাজায় আসেন। অনেকের স্বজন হারিয়েছে সেই দুর্ঘটনায়, কারো আবার সহকর্মী। আবারও অনেকে কাছের মানুষটির মৃত দেহ খুঁজে না পেয়ে ওই দিনটিকেই তার মৃত্যু দিবস পালন করতে আসেন সেখানে। শুধু যে ওই দিনটিতেই আসেন তা কিন্তু নয়। অনেকে বিভিন্ন সময় ওই জায়গায় এসে সময় কাটান। হারানো মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার নীরব আর্তনাদ শোনা যায় মানুষগুলোর কথায়।

 

ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের এখনকার অবস্থা

ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই ক্ষতিপূরণ পেয়ে এখন বেশ ভালোভাবেই জীবনযাপন করছেন। আবারও অনেকে এখনো ক্ষতিপূরণের আশায় ঘুরছেন। তাদের জীবনের মান এখন অনেকটাই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তবে সবাই যে সেই ক্ষতিপূরণের আশায় বসে আছেন তা কিন্তু নয়। নিজ উদ্যোগেই এখন অনেকে নিজের মতো সাজিয়েছেন জীবনের নতুন অধ্যায়। সার্বিক দিক থেকে সেই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ক্ষত কিন্তু এখনো দূর হয়নি।

 

পা ভেঙে নিঃস্ব সুজন

সুজন নামে এক যুবক দুর্ঘটনার দিন ভবনের ছয় তলায় ছিলেন। সেখান থেকে যখন নিচে পড়ে যান, তার পায়ের ওপর একটি পিলার পড়ে যায়। অনেক কষ্ট করে সেখান থেকে হয়তো তিনি বেঁচে ফিরেছেন। কিন্তু পায়ের সেই ক্ষত এখনো স্পষ্ট। কোনো কাজ করে খাওয়ার মতো অবস্থা এখন আর তার নেই। হাস্যজ্জ্বল জীবনের মোড়টা হঠাত্ করে বিষাদের দিকে মোড় নেয় সুজনের।

 

ভবনের সাথে ভেঙে গেল নববধূর সংসার

সদ্য বিয়ে হয়েছে একটি মেয়ের। স্বামীসহ রানা প্লাজার সেই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তিনি। বিয়ের সময় মাত্র ছয় মাস, খুব সুন্দর চলছিল সময়গুলো। নতুন করে একটি মেয়ের স্বপ্ন দেখা। সংসারটা মাত্র বুঝে ওঠা, ছোট ছোট জিনিস দিয়ে পূর্ণ করা ঘরটিকে। দিনগুলো যখন এমনভাবেই চলছিল ঠিক তখনই রানা প্লাজা ভাঙন। তার সাথে ভেঙে গেল এক নববধূর ছোট ছোট সেই স্বপ্নগুলো। মেয়েটি এখন রাজধানীর শনির আখরায় থাকেন। পরিবার থেকে আবারও বিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু নতুন জীবনে এসেও তিনি ভুলতে পারেননি সেই অসহায়ত্বের দিনগুলোর কথা। শত মানুষের ভিড়ে রানা প্লাজার ওই সীমানায় এখনো দেখা যায় তাকে।

 

গার্মেন্টসে আর কেউ কাজ করছেন না

সেই দুর্ঘটনার পর অনেকেই অনেক কাজ করছেন। কেউ ছোট কোনো ব্যবসা করছেন, আবারও কেউ অন্য কোনো চাকরি করছেন। কিন্তু যাদের সাথেই কথা বলা হয়েছে এরমধ্যে কাউকে পাওয়া যায়নি যে তারা কেউ আবারো গার্মেন্টসে কাজ করছেন। জীবনের সেই ভীতি এখনো রয়ে গেছে তাদের মাঝে। সময়ের সাথে সাথে শরীরের ক্ষতের ওপরে হয়তো এক আস্তর জমে যাবে। ঢেকে যাবে সেই জায়গাটি। কিন্তু মনের মাঝে সেই ভীতির ক্ষয় হয়তো কোনোদিনই ঢাকবে না।

 

প্রচ্ছদ :সোহেল আশরাফ

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন