সেলুলয়েড পর্দায় ইতিহাসের সেই মানুষগুলো
৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ইং
সেলুলয়েড পর্দায় ইতিহাসের সেই মানুষগুলো
ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত মানুষের জীবনী পড়ি আমরা প্রতিনিয়ত। এছাড়া ইন্টারনেটের পেইজেও সেই গল্পগুলোর সাথে অনেকে পরিচিত। তবে শুধু সেখানেই আটকে নেই তাদের সেই গল্পগুলো। সেলুলয়েডের পর্দাতেও উঠে এসেছে তাদের সেই জীবনের ইতিহাস। সেই মানুষগুলোর বায়োপিক চলচ্চিত্রের কথাই তুলে ধরা হয়েছে আমাদের এই আয়োজনে—

8 এস এম আমানূর রহমান

শচীন :এ বিলিয়ন ড্রিমস

ভারতের ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। সাধারণের কাছে তিনি টেন্ডুলকার নামেই পরিচিত। এ বছর ১১ এপ্রিল নিজ টুইটার অ্যাকাউন্টে এক পোস্টারের ছবি শেয়ার করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি ছিল তার নিজের বায়োফিল্মের পোস্টার। বলা হয়ে থাকে, এই চলচ্চিত্রে তার জীবনের সব খুঁটিনাটি বিষয়গুলো উঠে আসবে, যা এখন পর্যন্ত সকলের অজানা। চলচ্চিত্রটির নাম ‘শচীন:এ বিলিয়ন ড্রিমস’।

যেখানে শচীনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ক্রিকেট ঈশ্বরখ্যাত শচীন টেন্ডুলকার নিজেই। আর যুবক শচীনের চরিত্রে দেখা যাবে অর্জুন টেন্ডুলকারকে। মায়ারুশ থাকছেন নিতিন টেন্ডুলকারের চরিত্রে।

 

চে

চে গুয়েভারা। বিপ্লবী এই নেতার পরিচয় তার নামেই। তাকে নিয়ে দুই পর্বের আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন আমেরিকান পরিচালক স্টিভেন সোডেরবার্গ। ১৯৬৪ সাল থেকে চলচ্চিত্রটির প্রথম পর্ব শুরু হয়। এখানে ফিদেল ক্যাস্তোর সাথে দেখা করেন তিনি এবং স্বাক্ষর করেন ২৬ জুলাই বিপ্লবের জন্য। চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয় অধ্যায় ছিল তার গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে। ৫৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করা এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। চলচ্চিত্রটি আয় করেছে ৪০.৯ মিলিয়ন ডলার।

চলচ্চিত্রে আর্নেস্তো চে গুয়েভারা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেনেসিয়া দেল তোরো। ফিদেল ক্যাস্তোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডেমিয়ান। চলচ্চিত্রটির প্রথম অংশ সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় অংশটি ছিল আলোচনায়। তবে দর্শকদের দারুণভাবে হতাশ করে ২০০৮ সালে নির্মিত ‘চে’।

 

ফ্রিদা

সুরিয়ালিস্ট চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো এক নামে সবার কাছে পরিচিত। তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন আমেরিকান পরিচালক জুলিয়া টেমোর। বেশ সফলতার সাথে ২০০২ সালে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন তিনি। সেখানে ফ্রিদা চরিত্রে অভিনয় করে সালমা হায়েক একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ফ্রিদার স্বামী দিয়েগো রিভেরার চরিত্রে অভিনয় করে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন আলফ্রেড মোলিনা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ‘বেস্ট মেকআপ’ ও ‘বেস্ট অরিজিনাল স্কোর’ ক্যাটাগরিতে একাডেমি পুরস্কার জয় করে নেয় চলচ্চিত্রটি। দর্শকের পাশাপাশি চলচ্চিত্র বোদ্ধারাও মেতেছিল ফ্রিদা নিয়ে। অধিকাংশ সমালোচকের কাছেই আকর্ষণীয় ছিল চলচ্চিত্রটির প্লট। সেই সঙ্গে এই বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল চলচ্চিত্রটির কাস্টিং।

 

এম এস ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি

কর্মরত অবস্থায় নিজের আত্মজীবনী নির্ভর চলচ্চিত্র যেকোনো ব্যক্তির জন্যই আকর্ষণীয়। আর তেমনই এক আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনে। ‘এমএস ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ চলচ্চিত্রটির টিজার মুক্তি পেয়েছে এ বছর মার্চ মাসের ১৫ তারিখ। নিরাজ পান্ডে পরিচালিত চলচ্চিত্রটিতে ধোনি চরিত্রে অভিনয় করছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ধোনির স্ত্রী সাকশি ধোনি চরিত্রে অভিনয় করছেন কিয়ার আদভানি। এখানে হেরি টাংরিকে দেখা যাবে ভারতের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিং-এর চরিত্রে। আগামী সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি।

 

ম্যান্ডেলা :লং ওয়াক টু ফ্রিডম

নেলসন ম্যান্ডেলা চরিত্রের সবচাইতে শক্তিশালী উপস্থাপন ছিল তার আত্মজীবনী ‘ম্যান্ডেলা : লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ চলচ্চিত্রে। ব্রিটিশ পরিচালক জাস্টিন চেডউইক ও তার স্বদেশী উইলিয়াম নিকলসনের লেখনীতে অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে ম্যান্ডেলার চরিত্রটি। ২০১৩ সালের এই চলচ্চিত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের জীবনকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ ছিল চলচ্চিত্রটির মূল প্লট। সেখানে ম্যান্ডেলার চরিত্রে ছিলেন ইদ্রিস এলবা।

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ‘বেস্ট অরিজিনাল সং’ ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয় চলচ্চিত্রটির ‘ইউ২ ফর অর্ডিনারি লাভ’ গান। সমালোচকদের কাছেও চলচ্চিত্রটি গুরুত্ব পায় তার চিত্রনাট্যের জন্য। কিন্তু ম্যান্ডেলা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন ইদ্রিস এলবা।

 

লিংকন

স্টিভেন স্পিলবার্গের অসাধারণ ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র ‘লিংকন’। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র ছিল আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। আমেরিকার তত্কালিন সামাজিক অবস্থার সাথে আব্রাহাম লিংকনের চরিত্রকে উপস্থাপন করা যেকোনো নির্মাতার জন্যই ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সেটাই করে দেখিয়েছেন স্পিলবার্গ। ৬৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করা ফিল্মটি বক্স অফিস থেকে আয় করে ২৭৫.৩ মিলিয়ন ডলার। ব্যবসায় সফলতার পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছেও সমাদৃত হয়েছে।

আমেরিকার দাস প্রথা বাতিল ও তার সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো প্রাধান্য পেয়েছে এই চলচ্চিত্রে। স্পিলবার্গ অত্যন্ত যত্নের সাথে তার লেন্সে দাস প্রথা বাতিল নিয়ে চলা দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে আব্রাহাম লিংকনের চরিত্রে ছিলেন ড্যানিয়েল ডে লুইস। স্যালি ফিল্ড ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেরি টড লিংকনের চরিত্রে। গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের বেশকিছু ক্যাটাগরিতে মনোনীত হলেও ড্যানিয়েল জয় করেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার।

 

মেরি কম

মাঙ্গতে চুঙ্গিজাম কম বা মেরি কম ভারতের নারী বক্সার। তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ওমাং কুমার। ‘মেরি কম’ চলচ্চিত্রটি ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জয় করে। সেখানে মেরি কম চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ২.২ মিলিয়ন ডলার বাজেটের চলচ্চিত্রটি আয় করে নেয় ১৫ মিলিয়ন ডলার! ভারতের মনিপুর রাজ্যের কম গোষ্ঠির একজন গর্ভবতী নারীকে নিয়ে শুরু হয় চলচ্চিত্রটির কাহিনি। শেষ পর্যন্ত তার বক্সার হয়ে ওঠা ছিল সকলের জন্যই চমক। অথচ সবাইকে চমকে দিতে গিয়ে যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল তাকে সেটাই এই চলচ্চিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন