তারা সবাই যেন ‘ধৃতরাষ্ট্র’!
৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ইং
তারা সবাই যেন ‘ধৃতরাষ্ট্র’!
মহাভারতের ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন জন্মান্ধ। ভাই পান্ডুর অবর্তমানে তিনি হস্তিনাপুরের রাজা হন। ধৃতরাষ্ট্রের ছিল একশ’ পুত্র ও এক কন্যা। না, আজকে ধৃতরাষ্ট্রের সেই একশ’ পুত্র ও এক কন্যার বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না! এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, কেন ধৃতরাষ্ট্রের কথা তাহলে শুরুতেই টেনে আনা! আসলে আজকে আমরা জানবো এমনকিছু পরিবারের কথা, যে সকল পরিবারের সদস্য সংখ্যা হয়তো কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ধৃতরাষ্ট্র পরিবারকে।

8 দিব্যজ্যোতি দত্ত

বিশ্ব শাসন করবেন চানা

আর কিছু না হোক পরিবারের সদস্য সংখ্যার দিক দিয়ে এখনই ধৃতরাষ্ট্র পরিবারের বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন ভারতের জিওনা চানা। ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন সন্তান ও ৩৩ জন নাতি-নাতনির সবাইকে নিয়ে ভারতের মিজোরামের বাকতওয়াং গ্রামে বসবাস করেন চানা। ধারণা করা হয়ে থাকে বর্তমানে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবার। তবে এতো বড় পরিবার হলে কি হবে, যথেষ্ট নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়েই যেতে হয় এই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে। চানার প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গির নির্দেশনাতে চলে এই পরিবার। এছাড়া বাড়ির প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কাজ ভাগ করা আছে। প্রত্যেকে নিজ দায়িত্বের কাজ করেন প্রতিদিন। সাধারণত গৃহস্থালির কাজ বাড়ির মহিলাদেরই করতে হয়। আর পুরুষরা কৃষি কাজ করেন।

এই পরিবার একটি চারতলা বাড়িতে একত্রে বাস করেন, যেখানে একশ’রও বেশি কক্ষ আছে। চানার ৩৯ জন স্ত্রীর মধ্যে যে সবচেয়ে ছোট তার কক্ষ চানার কক্ষের সবচেয়ে নিকটে। চানার সাথে কোন দিন তার কোন স্ত্রী ঘুমাবেন সে বিষয়েও কিন্তু ধারাবাহিকতা রয়েছে। চানা বলেন, ‘আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে বিয়ে করি প্রায় ২৫ বছর আগে। এরপর থেকে আমি বেশ নিয়মিতই বিয়ে করেছি। এমন সময় গেছে যখন আমি বছরে দশটি বিয়েও করেছি। এখনও আমি বিয়ে করতে প্রস্তুত আছি।’

এমন একটি পরিবার সামলানো কিন্তু মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। চানা পরিবারের খাবারের কথাই বলা যাক। প্রতিদিন তাদের ৯০ কেজি চাল ও ৬০ কেজি আলুর প্রয়োজন হয়। আর আমিষ খাবারের দিন গোটা ৩০টি মুরগি প্রয়োজন হয় শুধু রাতের খাবারেই!

তবে চানাদের এমন বড় পরিবারের পেছনে কিন্তু একটা গল্প আছে। চানা বিশ্বাস করেন, একদিন তার পরিবার শাসন করবে সমগ্র বিশ্ব। আর এই বিশ্বাস থেকেই পরিবার বড় করেই যাচ্ছেন জিওনা চানা।

 

আলবিনা পরিবার

মিস্টার ও মিসেস আলবিনা দম্পতির সন্তান সংখ্যা ৬৪ জন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে—তাদের কেউই দত্তক সন্তান নয়। মিস্টার আলবিনার যখন ৩০ বছর এবং মিসেস আলবিনার ১২ বছর বয়স তখনই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আলবিনা পরিবার সম্পর্কে এসব তথ্যের কোনোটিও যদি আপনাকে অবাক করে থাকে তবে আপনার জন্য রয়েছে আরেকটি তথ্য। আর তা হচ্ছে—এই বিশাল পরিবার চিলিতে মাত্র দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাসায় একত্রে বসবাস করে। তবে সামনে হয়তো এই কক্ষ সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। কে জানে, মিস্টার আলবিনার বয়স এখন ৭৯ আর মিসেস আলবিনার মাত্র ৬১ বছর!

 

এরইমধ্যেই ‘সুপার ড্যাড’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাদ মোহাম্মদ আল বালুশ এরইমধ্যে নিজেকে এক রকম ‘সুপার ড্যাড’-এর কাতারে নিয়ে গেছেন। তার মোট স্ত্রীর সংখ্যা ১৭। ইসলামিক নিয়ম মেনেই এক সঙ্গে ৪ স্ত্রীর বেশি তিনি কখনোই রাখেননি। ৬৫ বছর বয়সী দাদ মোহাম্মদ অবশ্য বলেন, ‘যদি সম্ভব হতো তবে আমি একত্রে ২০ জন স্ত্রীকে কাছে রাখতাম।’

তার প্রত্যেক স্ত্রীই বেশ বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। যদিও তারা আলাদা থাকেন, কিন্তু প্রত্যেক সপ্তাহেই তাদের পুরোনো বাড়িতে সবাই একত্রিত হন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শিগগিরই তিনি শত সন্তানের মাইলফলক স্পর্শ করে নিজেকে একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করবেন! ভালো কথা, দাদ মোহাম্মদের সন্তান সংখ্যা মাত্র ৯৩ জন!

 

সন্তানের নামই জানেন না বাবা

ব্রাজিলের রিও গ্রান্দের দে নরতের উত্তরের দিকে ক্যাম্পো গ্রান্দে। সেখানেই বাস করেন অলিভেইরা। পেশায় তিনি একজন কৃষক। না কৃষি কাজের জন্য লোকে তাকে চেনেন না। লোকে তাকে চেনেন তার বৃহত্ পরিবারের কারণে। কমপক্ষে অর্ধশত সন্তান ও একশ’রও বেশি নাতি-নাতনি আছে তার। তবে বিয়ের দিক থেকে বেশ পিছিয়েই আছেন অলিভেইরা। তার প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় স্ত্রীই তাকে ১৭ জন করে সন্তান উপহার দেন। তৃতীয় সংসারে ১৫ জন ও চতুর্থ সংসারে সন্তান সংখ্যা একজন। স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের সাথে কথা বলার সময় অলিভেইরা বলেন, ‘ঈশ্বরের সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে নারী।’

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে—তার সর্বমোট কতজন সন্তান তা অলিভেইরা নিজেও জানেন না! সবার নাম জানার তো প্রশ্নই ওঠে না!

 

লক্ষ্য যখন শত সন্তান

পাকিস্তানের জান মোহাম্মদ। বেলুচিস্তানের কোয়েতা শহরের বাসিন্দা তিনি। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৩৯ জন। তিনি, তার তিন স্ত্রী ৩৫ সন্তান নিয়ে তাদের সংসার। পেশায় চিকিত্সক হওয়ার সুবাদে আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল জান মোহাম্মদ। এই পরিবার পরিচালনা করতে তার মাসিক খরচ হয় ১ লাখ পাকিস্তানি রুপি। পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে জান বলেন, ‘আমার লক্ষ্য একশ’ সন্তানের বাবা হওয়া। সৃষ্টিকর্তাকে অশেষ ধন্যবাদ যে, তিনি আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। খুব শিগগিরই ঘরে নতুন অতিথি আসবে। এজন্য আমরা সবাই খুব খুশি। আল্লাহর রহমতে আমার ২১ জন কন্যা ও ১৪ জন পুত্র সন্তান রয়েছে।’

 

গোটা পরিবার যখন টিভি শো’তে

খুব অল্প সময়েই একটি বড় পরিবার হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে ডুগার পরিবার। জিম বব ও মিচের ডুগারের এই পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু খুবই জনপ্রিয়। আর হবে না-ই বা কেন! ৭ বছর ধরে একটি রিয়্যালিটি শো করছেন যে তারা। তাদের ১৯ জন সন্তান ও ৬ জন নাতি-নাতনি।

তবে এতো বড় একটি পরিবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার পেছনেও কিন্তু রয়েছে একটি গল্প। বব-ডুগার দম্পতি শুরুতে সন্তান নিতে আগ্রহী ছিলেন না। এরপর অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে তাদের কোল আলো করেন প্রথম সন্তান যশুয়া। আর যশুয়ার জন্মের পরেই এই দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন যে, কে দুনিয়ায় আসবে বা না আসবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ঈশ্বরের। আর এরপর থেকে গড়ে প্রতি ১ বছর ৩ মাস পরেই তাদের কোল আলোকিত হয়েছে বারবার।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন