ভরতনাট্যম এবং এক বিদুষী লীলা’র শুভাগমন
৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ইং
ভরতনাট্যম এবং এক বিদুষী লীলা’র শুভাগমন
8 লুবণা মরিয়ম

লীলা স্যামসনের নৃত্যশৈলী নিয়ে আসলে আমার বলার কিছু নেই। কারণ লীলা এমনই এক বিদুষী নৃত্যশিল্পী, যিনি ভরতনাট্যমে একই সাথে শাস্ত্রীয় ফর্মের সাথে নিজের আধুনিকতার যে মিশেল দিতে জানেন তা অনবদ্য। লীলা’র একেকটি নতুন মুদ্রা বা নাচের ফর্মই তাই একেক ব্যাকরণ হিসেবে আমি উল্লেখ করবো।

তবে আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগা ও গর্বের বিষয় হলো—এমন বিদুষী নৃত্যশিল্পী সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্কযোগ এবং এই বাংলাদেশে তিনি যে ৪ বার এসেছেন প্রতিবারই আমার সংগঠন ‘সাধনা’ তাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে। ১৯৯২ সালে প্রথমবার যখন লীলা স্যামসন ঢাকায় আসেন তখন জাতীয় জাদুঘরে ভরতনাট্যমের ওপরে বিশেষ পারফর্মেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেটিই এদেশে সর্বপ্রথম ভরতনাট্যম নিয়ে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য একটি পরিবেশনা। এরপর ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের পর এ বছর তিনি এলেন দীর্ঘ বিরতি নিয়ে। লীলা স্যামসনের নৃত্যের মূল্যায়নের কথা বললে আমি বলবো তিনি যে পিওর ভরতনাট্যমের উদ্ভাবক সেখানে তিনি যে প্রকৃতিবাদী নৃত্যের একেকটি কোরিওগ্রাফি করেন তা দেখে যেকোনো দর্শক মোহমুগ্ধতায় স্থবির হয়ে যেতে বাধ্য। এবারের সফরের প্রথমদিনে লাইভ মিউজিকের ওপরে তিনি যে পারফর্ম করলেন তার পরদিন ছিল রেকর্ডেড মিউজিকের সাথে। এই পরিবেশনায় আমি মনে করি এদেশে যারা নৃত্যচর্চা করছেন বা করার প্রত্যাশা রাখেন তাদের জন্য তিনি অমূল্য কিছু দিয়ে গেলেন। প্রতিবছর সাধনার উদ্যোগে লীলা স্যামসনের বিশেষ আয়োজন থাকলেও এবারে যুক্ত হয়েছে ‘সৃষ্টি’ নামের সংগঠনটি। ৫৭ জন তরুণ নৃত্য শিক্ষার্থীদের যে বিশেষ ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয় তাতে ছেলেমেয়েরা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং আমাদের দেশের এই তরুণ প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের মেধা দেখেও লীলা খুব এপ্রিশিয়েট করেন। সাধনা’র সাথে লীলার এই আত্মিক যোগাযোগ আমাদের নৃত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করছে। লীলা’র বারংবার এদেশে এমন সফরের উদ্যোগ আগমনের প্রত্যাশা রাখি। মহান এই বিদুষী’র প্রতি শুভকামনা।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন