প্রাচীন, দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপির লাইব্রেরি
আহাদ আদনান০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
প্রাচীন, দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপির লাইব্রেরি
 

বই পড়তে ভালোবাসেন এমন যে কারো কাছে লাইব্রেরি খুব কাঙ্ক্ষিত একটি স্থান। সেটি যদি হয় ধর্মীয় পবিত্র কিন্তু অপ্রত্যাশিত কোনো জায়গায় তাহলে ব্যাপারটা হয়ে যায় আরো মজার। উমরাহ পালন করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। মসজিদ আল হারাম, অর্থাত্ যেখানে পবিত্র কাবা শরীফ অবস্থিত, সেখানেই যে এত সুন্দর লাইব্রেরি আছে ভাবতে পারিনি।

মসজিদ আল হারামে প্রবেশের অনেকগুলো দরজা আছে। প্রতিটি দরজার আলাদা নাম আছে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান তাদের অনেকেই ‘মিস ফালাহ’ নামক স্থানে থাকেন। এখান থেকে সুউচ্চ মক্কা টাওয়ার ধরে সামনের দিকে এগুলে খুব সহজেই চোখে পড়ে ‘বাদশাহ ফাহাদ’ গেট। এই গেট দিয়ে ঢুকলেই চতুর্থ তলাতে পাওয়া যাবে এই মসজিদ আল হারাম লাইব্রেরি।

আমি আসলে এই লাইব্রেরিটির কথা জানতাম না। সালাত আদায় করতে ঢুকতে গিয়ে দেখি এর নাম। সাড়ে তিনতলাতে উঠতেই দু’জন নিরাপত্তাকর্মী জানালেন খাতায় নাম লিখে ভেতরে ঢুকতে হবে। আমি খাতাটা নিয়েই ‘দেশ’-এর কলামে ‘বাংলাদেশ’ লেখা খুঁজতে লাগলাম। খুব বেশি পাইনি অবশ্য। ভেতরে ঢুকতেই মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল। এখানে প্রবেশের সময় জুতা দরজার বাইরে রাখতে হয়। মুঠোফোন ‘সাইলেন্ট’ করে রাখার নিয়ম। টেবিলের ওপর বেশকিছু কম্পিউটারে কাজ করছেন অনেকে। যেকোনো ধর্মীয় গবেষণামূলক কাজের জন্য এর দ্বার অবারিত।

সৌদি আরবে থাকাকালীন সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছিল ভাষা নিয়ে। ‘অনর্গল’ বলা দূরের থাক, কাজ চালানোর মতো ইংরেজি বলা লোকের খুব অভাব। লাইব্রেরি সম্বন্ধে কথা বলার জন্য ইংরেজি জানা গ্রন্থাগারিকের খোঁজ করতে গিয়ে দেখি ওরা বেশ লজ্জাই পাচ্ছে! পরে একজন এলো উপকার করতে। এমন মিষ্টভাষী লোক আমি খুব দেখিনি। হাসিহাসি মুখে, ছোট ছোট ইংরেজিতে উনি আমাকে অনেক তথ্যই দিলেন।

এটি আসলে মূল আরেকটি লাইব্রেরির শাখা। প্রধান লাইব্রেরিটি মক্কাতেই অবস্থিত। আর এই শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৪৩৪ হিজরিতে। মোটামুটি ১৫ হাজারের মতো বই আছে এখানে। ১৩ হাজারের মতো বই আরবি ভাষায় লিখিত। বাকি বইগুলো বিভিন্ন ভাষার। যেমন—বাংলা, উর্দু, হিন্দি, তামিল, ফ্রেঞ্চ, চাইনিজ, তেলেগু, সিংহল, জার্মান, পাশতু, মারাঠি, সোমালি, রুশ, আলবেনীয়সহ আরো কিছু ভাষায় লিখিত। তবে যেহেতু এটি একটি মসজিদের অভ্যন্তরীণ লাইব্রেরি, বইয়ের বিষয়বস্তু ইসলাম ধর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত। বই ছাড়াও কিছু প্রাচীন, দুষ্প্রাপ্য হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিও আছে এখানে।

প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। প্রতি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের জামাতের কিছু আগে বের হয়ে মসজিদে যেতে হয়। বৃহস্পতি আর শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুধুমাত্র মহিলাদের প্রবেশের জন্য বরাদ্দ থাকে। লাইব্রেরিতে একসাথে ৬০-৭০ জন লেখাপড়া করতে পারে। পাশাপাশি অন্তর্জাল ব্যবহার করতে চাইলে, সিডি শুনতে চাইলে আছে কম্পিউটার। ধর্মীয় বিভিন্ন জটিল প্রশ্ন, সমস্যার সমাধানের জন্য আপনি পাবেন সার্বক্ষণিক সহায়তা, যদি আপনার আরবি ভাষায় দক্ষতা থাকে!

আমার যেহেতু আরবি ভাষায় কোনো দক্ষতা নেই, আমাকে খুশি থাকতে হয়েছে বাংলা আর ইংরেজি ভাষায় লেখা বই পড়ে। বাংলায় অনুবাদসহ আল কোরআন, সহিহ আল বুখারি, কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা, ‘মাযহাব’ (শুদ্ধ বানান মাজহাব), বুলুগুল মাকাম বইগুলোর কথা মনে পড়ছে। এগুলো বাংলায় লেখা। আর ইংরেজি বইয়ের মধ্যে ছিল THERAPY FROM THE QURA’N & HADITH, THE SECRETS OF DIALOGUE & PERSUASION, GEMS AND JEWELS, GOLDEN STORIES OF UMAR, THE END OF THE WORLD, SCIENTEFIC MIRACLES IN THE OCEANS AND ANIMALS প্রভৃতি।

যেহেতু মক্কা নগরীতে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য, এই লাইব্রেরিটিও সবার জন্য নয়। তবে বাংলাদেশ থেকে হজে যারা যান তারা এই লাইব্রেরিটি ঘুরে আসতে পারেন।

 

মাতুয়াইল, ঢাকা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন