বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের পাশে ‘এডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের পাশে ‘এডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’

রুমান হাফিজ

 

উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনো শিক্ষার্থীদের চোখ থাকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর। নিজের পছন্দ কিংবা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। পরীক্ষার প্রস্তুতি ছাড়া আরো বেশকিছু বিষয় নিয়ে ভর্তিচ্ছু এসব শিক্ষার্থীদের চিন্তিত থাকতে হয়। ভর্তি ফরম পূরণ করার জন্য হাতে আর ক’দিন সময় আছে, কবে টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, কখন এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে, কবে ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি নানা তথ্য মাথায় রাখাও চাট্টিখানি কথা নয়। তার ওপর দেশের একেক প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলে, কি কি পড়তে হবে, কি থাকবে সিলেবাসে, ভর্তির যোগ্যতা কি, কিভাবেই বা দূরের ক্যাম্পাসে যাতায়াত করা যাবে, কোথায় থাকবে তা নিয়েও চলে কত চিন্তা, দ্বিধা, বিভ্রান্তি। এসবের ঝঁক্কি-ঝামেলায় অনেক বেগ পোহাতে হয় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের। আর এসব সমস্যার সমাধান দিতে একত্রিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা বানিয়েছেন এডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট নামের বিশেষ একটি অ্যাপস।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অ্যাপসটির কাজ শুরু হয়। অ্যাপসটির সার্ভার ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজাইনিংয়ে কাজ করেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জাওয়াদ খান, মাহবুবুর রহমান ও শোভন মাহমুদ। ডাটা এনালাইসিসে কাজ করেন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী। তাদের শুরুর গল্পটা জানালো অ্যাপসের টিম প্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন

২০১৪ সালে যখন আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন দেই তখন অনেকগুলো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে। তখন থেকেই আমার চিন্তা জন্ম নেয় কিভাবে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। তারপর  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। পড়ালেখার চাপে জন্ম নেওয়া চিন্তার বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১৮ সালে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম, যে করেই হোক আমাকে এর সমাধান করতেই হবে। তখন ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের সাথে কথা বললাম। সবার আন্তরিকতা আর যথেষ্ট সাড়া পেয়ে কাজে নেমে পড়লাম। পুরো ৩ মাস একটানা কাজ করে অ্যাপসটি এখন প্লে-স্টোরে উন্মুক্ত করেছি সেপ্টেম্বর মাসে। এখনো অ্যাপসটিকে আরো কার্যকর ও নির্ভুল করার চেষ্টা করছি। এখন প্রায় ৩০টির মতো ফিচার আছে, শিগগির আরো অনেকগুলো ফিচার সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অ্যাপসটির লক্ষ্য এবং ব্যবহার নিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা, টাকা জমা দিতে দোকানে দোকানে খোঁজ করা এসব নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি এটি। এরইমধ্যে অ্যাপসটির ব্যবহারকারী প্রায় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অনেক ফিডব্যাক পাচ্ছি। অ্যাপসটি আশা করি শিক্ষার্থীদের বিশ্বস্ততা, ভরসার জায়গা পাবে। অ্যাপসটি ব্যবহারের জন্য প্রথমেই ব্যবহারকারীর  ফোন নম্বর, মেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। আর তারপরই দেখতে পারবেন অ্যাপসের বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলো। সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি না করে খুব সহজেই এই অ্যাপস ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি রয়েছে বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে এডমিশন ফর্মের ফি প্রদান করার সুযোগ।

আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেখানে ক্লিক করলেই জেনে যাবেন আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যাবতীয় তথ্য। প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সার্কুলার দেওয়া আছে অ্যাপসটিতে। সার্কুলার বোঝার সুবিধার্থে সহজ ফরম্যাটে নিয়ে আসা হয়েছে এখানে। পাশাপাশি প্রতিটি সার্কুলার প্রকাশের সাথে সাথেই নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই এখন বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েবসাইট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে সার্কুলার খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করতে হবে না। অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ভার্সিটির আবেদন কখন শুরু হবে তা একসাথে লিস্ট করে দেওয়া আছে। তাছাড়া আপনি দেখতে পাবেন কোন ভার্সিটির আবেদনের শেষ তারিখ কবে। আর কতদিন বাকি আছে।

সবচেয়ে মজার এবং ভালো দিকটা হচ্ছে, যাদের এন্ড্রয়েড ফোন নেই চাইলে আপনি তাকেও হেল্প করতে পারবেন। কারণ এক ফোন দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। কিভাবে? আপনার মোবাইল দিয়ে যার জন্য অ্যাকাউন্ট করবেন শুধু তার ফোন নম্বর ব্যবহার করে আরেকটি অ্যাকাউন্ট খুলে এসএমএস সার্ভিস অন করে দিলেই তার কাছেও ভর্তি পরীক্ষার সকল ইনফরমেশন পৌঁছে যাবে এসএমএসের মাধ্যমে!

আর যখন যে ভার্সিটি এডমিড কার্ড, সিট প্ল্যান, রেজাল্ট পাবলিশ হবে তা সাথে সাথেই দেখতে পাবেন এবং এক ক্লিকেই নিজের তথ্যাবলি জেনে নিতে পারবেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু লিখে রাখার জন্য রয়েছে ‘নোটপ্যাড’, যা গুগল ড্রাইভের মতো ফোন নষ্ট কিংবা হারিয়ে গেলেও তা ঠিকঠাকভাবেই পাবেন পুনরায় অ্যাপসটিতে লগইনের মাধ্যমে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অচেনা শহরে কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এসব সমস্যাদির জন্যও রয়েছে  সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আছে ‘ম্যাপিং’ সুবিধা। এতে করে আপনার শহর হতে অনায়াসে বিভিন্ন ভার্সিটি চলে যেতে পারবেন কারো সাহায্য ছাড়াই। আর রয়েছে বাস, ট্রেন টিকেট বুকিং করার সুবিধা। এমনকি রয়েছে হোটেল বুকিং করার সুবিধাও!

অ্যাপসটি এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন অধীনে জাতীয় পর্যায়ে কম্পিটিশনের জন্য মনোনীত হয়েছে। অ্যাপসটির ডাটা এনালাইসিসের দায়িত্বে থাকা প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগের এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করছি এই সময়টাতে ভর্তি তথ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে যেন মূল্যবান সময়ের অপচয় না হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই অ্যাপসটির মাধ্যমে আশা করি স্টুডেন্টদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় করবে।

 

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন