লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ভিন্ন আয়োজন
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ভিন্ন আয়োজন

ছাইফুল ইসলাম মাছুম

 

সমাজের আর দশটা মানুষের থেকে একটু ভিন্ন হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষগুলো। সাধারণ মানুষগুলো যেমন তাদের আঁড়চোখে দেখে তেমনি মেলে না সম্মানও। সামাজিক কোনো আচার-অনুষ্ঠানেও সবাই তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় খুব সহজেই। তবে সেই সম্মানহীন মানুষগুলোকেই একটু ভালোবেসে সবকিছুর সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে শুরু করেছে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা রিথিংক। তারই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হলো হিজড়াদের জন্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা সঙ্গীত’।

৩০ সেপ্টেম্বর রিথিংকের নিজস্ব কার্যালয় রাজধানীর গ্রিন রোডের বিন্দুধারীতে অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এ আয়োজনে বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা নিয়ে হাজির হন ভারতীয় শিল্পীরা। এতে সরোদ পরিবেশন করেন অর্ণব ভট্টাচার্য এবং তলবায় পরিবেশন করেন নিলীমেশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয় হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষগুলোকে।

রাজধানীতে হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবন-মান উন্নয়ন এবং সদাচরণ প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও রিথিংক যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একজন হিজড়া যে কাজে পারদর্শী বা আগ্রহী, তাকে সেই কাজ শেখানো এবং তাদের সদাচরণ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য রিথিংক আয়োজন করে এ অনুষ্ঠান, যেন হিজড়া জনগোষ্ঠী কিছুটা হলেও এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুদ্ধসঙ্গীত সম্পর্কে জানতে পারে।

সরোদে রাগ চারুকেষীতে বিলম্বিত, দ্রুত ও তিন তাল দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর নিলীমেশ চক্রবর্তী এবং অর্ণব ভট্টাচার্য তবলা ও সরোদের যুগলবন্দিতে পরিবেশন করেন রাগ মারুবেহাগ, রাগেশ্রী, যোগ ও গোরক কল্যাণ।

আয়োজন সম্পর্কে শিল্পীদের নিবেদনের মাঝে মাঝে কথা বলেন হিজড়া জনগোষ্ঠির অনেকে। এ সময় তারা বলেন, এই আয়োজন আমাদের সত্যিকারভাবেই অনুপ্রাণিত করেছে। অন্য জায়গায় কোনো আয়োজনে গেলে যেমনটা সবাই সরে যায় বা আমাদের তাড়িয়ে দেয় সেখানে শুধুমাত্র আমাদের জন্য এ আয়োজন সত্যিই অনেক ভালোলাগার। আর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শুদ্ধসঙ্গীতের সঙ্গেও বেশ ভালোভাবে পরিচিত হতে পারলাম।

এমন একটি আয়োজনে নিজেদের নিবেদন করতে পরে রিথিংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিল্পীরাও। তারা বলেন, আমরা পৃথিবীর অনেক দেশে পরিবেশন করেছি। কিন্তু এমন আয়োজন কোথাও পাইনি। সমাজের এই শ্রেণিটা সবসময় দূর থেকেই আমাদের দেখেছে এবং আমরাও সেভাবে কখনো তাদের কাছে আসতে পারিনি। অথচ এই সঙ্গীতে তাদের আগ্রহ, এতো কাছে থেকে আজ তাদের জন্য পরিবেশন করতে পারা, তারা সামনে এতো কাছে থেকে বসে শুনছে, সত্যি অনেক ভালো লাগছে। ভালোলাগার সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটা অনুভূতির মতো এটা।

সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রিথিংকের পরিচালক লুলু-আল-মারজান। তিনি বলেন, নিবেদনটা খুব প্রয়োজন। সেটা হোক সঙ্গীতে কিংবা মানুষে, গাছে অথবা যেকোনো প্রাণে, প্রেমে, বেঁচে থাকায় কিংবা মরণে।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রথাগত ও আধুনিক উভয় ধারারই সংমিশ্রণ পাওয়া যায় অর্ণব ভট্টাচার্যের পরিবেশনায়। বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি। দেশে-বিদেশের বহু মঞ্চে সরোদ পরিবেশনের খ্যাতি অর্জন করেছেন অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শনের নিয়মিত এই শিল্পী।

অপরদিকে, সঙ্গীত পরিবারে জন্ম নেওয়া নিলীমেশ চক্রবর্তী বহু গুণী তবলাবাদকের কাছে প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। সর্বভারতীয় সঙ্গীত পরিষদ, ডোভারলেন মিউজিক কম্পিটিশনের মতো প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথমস্থান অধিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন