ইন্দোনেশিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ক্ষোভ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার অস্ট্রেলিয়ার
রয়টার্স৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
ইন্দোনেশিয়ার একটি ফায়ারিং স্কোয়াডে সাত বিদেশিসহ অভিযুক্ত আট মাদক পাচারকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মধ্যরাতের একটু পর বুধবার প্রথম প্রহরে চার নাইজেরীয়, দুই অস্ট্রেলীয়, এক ব্রাজিলীয় ও এক ইন্দোনেশীয়র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে এই প্রথমবারের মত নিজ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে অস্ট্রেলিয়া। অপরদিকে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রাজিল।

ইন্দোনেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় মাদক পাচারের চেষ্টা করলে ২০০৫ সালে চ্যান ও সুকুমারানকে আটক করা হয়। তবে রায় ঘোষণার পর থেকে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষার পর এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। অভিযুক্তদের ক্ষমা করার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত সারা বিশ্ব থেকে আবেদন এলেও সবই প্রত্যাখ্যান করে ইন্দোনেশিয়া। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে থাকা এক ফিলিপিনো নাগরিক রক্ষা পেয়েছেন।

কিন্তু ২০১০ সালে ম্যারি জেইন ভেলেসো নামের এই ফিলিপিনো নারী গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আসার পর তার সুটকেসে আড়াই কেজি হেরোইন পাওয়া যায়। নিজ ব্যাগে হেরোইন রাখার জন্য দুই সন্তানের মা এই নারী তার চাকরিদাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ফিলিপিন্স প্রেসিডেন্টের অনুরোধে ভেলেসোর দণ্ড স্থগিত করা হয়। মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ার বিষয়টিকে মেরি জেইনের মা একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 এদিকে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু যা করা হয়েছে তাতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এই মৃত্যু ছিল ‘নৃশংস ও অপ্রয়োজনীয়।’ তাছাড়া এটি আমাদের দ্বি-পক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি আরো জানান, জাকার্তায় নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত পল গিবসন চলতি সপ্তাহের শেষে দেশে ফিরে আসবেন। ওদিকে তিন মাসের মধ্যে দেশটিতে নিজেদের দ্বিতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে মর্মাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

দেশটির সরকার একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা হবে একটা “মারাত্মক ঘটনা”। এছাড়া দেশটির বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে বিভিন্ন দেশের ক্ষোভের বিরুদ্ধে নিজ দেশের পক্ষে সাফাই দিতে ইন্দোনেশিয়ার এটর্নী জেনারেল মুহাম্মদ প্রাসেতায়ো বলেছেন, তার দেশ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ করে যাচ্ছে। আর সে কারণেই এ দণ্ড কার্যকর করা প্রয়োজন ছিল। দাপ্তরিকভাবে কিছু না জানানো হলেও গণমাধ্যমে দেখানো ছবিতে কাঠের কফিনসহ  লাশবাহী কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে জাভার কিলাক্যাপ বন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে। এই বন্দর দিয়েই বিদেশি নাগরিকদের লাশ তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন