রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি খতিয়ে দেখছে ভারতের আইন কমিশন
ইত্তেফাক ডেস্ক০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
যে আইনের জালে গ্রেফতার  দিল্লির ছাত্র কানহাইয়া কুমার, যার ধারায় খোদ রাহুল গান্ধী, সীতারাম ইয়েচুরিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ, সেই রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটিই এ বার নতুন করে খতিয়ে দেখছে ভারতের আইন মন্ত্রণালয়।

কানহাইয়ার জামিন সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছিল, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের অর্থ তারা আদৌ বোঝে কিনা। আর বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বা ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ (এ) ধারাটি ফের খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইন কমিশনকে।  অবশ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, চলতি মামলার সঙ্গে এই পদক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৪-র ডিসেম্বরেই আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ওই আইনটি খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছিল।

অনেকেই মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আইনটির ইতিহাস।পরাধীন ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমন করতে ১৮৭০-এ দণ্ডবিধি সংশোধন করে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা ঢোকানো হয়।  ১৮৯৮ সালে একে আরও কঠোর করা হয়। স্বাধীনতার পরে ১৯৫১ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ (এ) ধারাটি আপত্তিকর ও অবাঞ্ছিত। তিনি এই আইন সংশোধনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সেই কাজ আর এগোয়নি।

পরে বার বার ব্যবহার হয়েছে এই আইন। মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে চিকিত্সক বিনায়ক সেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছিল ছত্তীশগড় সরকার। কিন্তু ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট বিনায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দেয়। সে সময়ে ইউপিএ সরকারের আইনমন্ত্রী বীরাপ্পা মইলি ওই আইন পরিবর্তনের কথা বলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসেন।

পরে মোদী সরকারের আমলে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারাটি খতিয়ে দেখতে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়। এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইন কমিশনকে। আইনটিতে কোনো বদল আনা প্রয়োজন কিনা, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আইন কমিশনের একটি কমিটি খতিয়ে দেখছে। কমিটির পর্যালোচনার মূল বিষয় হলো ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’-এর সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করা। কারণ, ইতোমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেবল মাত্র দেশবিরোধী স্লোগান দিলেই কাউকে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে গ্রেফতার করা যায় না। সেই ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত, এমন প্রমাণও থাকতে হবে। এই বিষয় মাথায় রেখে আইনের ভাষায় কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন