উদ্বেগ সত্ত্বেও ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের আয়োজন চলছে
বিবিসি ও রয়টার্স১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
উদ্বেগ সত্ত্বেও ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের আয়োজন চলছে
নানা উত্কণ্ঠার মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকে বসার আশা ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিমের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার একদিন পর এক টুইটে এ সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং বৈঠক হবে, যদি বৈঠক ঠিকমত শেষ হয় তবে সেটা বিশ্বের জন্য খুব ভালো হবে। সময় এবং স্থান পরে জানান হবে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের আলোচনার আয়োজন করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে বলে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যেই টুইটারে কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনার কথা জানালেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে ট্রাম্প তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলাসন এখন আফ্রিকা সফরে। আর এর মধ্যেই ট্রাম্প এত সংবেদনশীল একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। জিবুতিতে সাংবাদিকরা টিলারসনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট নিজেই নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আমি আজ খুব সকালে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং  আমাদের মধ্যে সফল আলোচনা হয়েছে।’

সম্ভাব্য এই বেঠক নিয়ে কেউ বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জে-ইনের কূটনৈতিক প্রতিভা, কেউ আবার বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপজ্জনক চাল দিয়ে খেলায় জিতে আসার ক্ষমতা একে সম্ভব করেছে। এই রাজনৈতিক জুয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়তো কিম জং উন, যিনি এখন পর্যন্ত কোনো কথাই বলেননি। কিছুদিন আগেও ট্রাম্প এবং কিম পরস্পরের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে চলেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেবেন। তারপর হঠাত্ করেই তাদের মধ্যে বৈঠক হবার খবর সবাইকে চমকে দিয়েছে।

উত্তর কোরীয় নেতা কিমের আলোচনায় বসায় আমন্ত্রণ ট্রাম্প গ্রহণ করার পর সারা দুনিয়ায় হৈচৈ পড়ে গেছে। এর গুরুত্ব বা তাত্পর্য কত বড়, তা নিয়ে এখন বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে তুমূল আলোচনা। বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন-কোরিয়া ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাডেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিক্সন যখন চীনের চেয়ারম্যান মাও জেদংয়ের সাথে দেখা করেছিলেন, ট্রাম্প-কিম বৈঠকের তাত্পর্য প্রায় তার সাথে তুলনীয়।’

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, এটা প্রমাণ করে যে আমেরিকার কঠোর নীতিতে কাজ হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈঠকের খবর জানানোর পর এখন পর্দার পেছনে কি ঘটবে। বৈঠকটি কোথায় কখন হবে সে সম্পর্কে এখনো জানা যাচ্ছে খুবই কম। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, এই বৈঠক হবে মে মাসের মধ্যে। কোথায় হবে তা ঠিক হয়নি।

কিম ও ট্রাম্পের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশ্লেষক ব্রুস বেনেট বলছেন, এটা মনে রাখতে হবে যে কিম বার বার বলেছেন তিনি তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবেন না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন