‘ভেনিজুয়েলার উদ্বাস্তু পরিস্থিতি চরম সংকটজনক পর্যায়ে’
বিবিসি২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
‘ভেনিজুয়েলার উদ্বাস্তু পরিস্থিতি  চরম সংকটজনক পর্যায়ে’
ভেনিজুয়েলার উদ্বাস্তু পরিস্থিতি তিন বছর আগের ভূমধ্যসাগরীয় ‘সংকটজনক পর্যায়ের’ দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা আইওএম।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) মুখপাত্র হোয়েল মিলম্যান বলেন, “বিশ্বের অন্য অংশে শরণার্থীদের যে দুর্ভোগ আমরা দেখেছি, এখানকার বর্তমান পরিস্থিতিও ওই সংকটময় অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। “কঠিন পরিস্থিতি দ্রুত সংকটময় পরিস্থিতির রূপ নেয় এবং এজন্য এখনই আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত।”

২০১৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখি শরণার্থীর ঢল নেমেছিল। যাত্রা পথে ওইসব শরণার্থীদের যে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তা বিশ্ববাসীর মনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরে ভেনিজুয়েলায় চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট  চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফ্রীতি এখন সেখানে। চরম খাদ্য সংকটের কারণে অনেক পরিবারকে আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজতে হচ্ছে। সেখানে চিকিত্সা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ দেশটির হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য কলম্বিয়া হয়ে ইকুয়েডর পেরু ও চিলিতে বসবাস করা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়া। যদিও প্রতিবেশী দেশগুলো ভেনিজুয়েলীয় শরণার্থীদের আটকাতে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রতিবেশী পেরু সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন করে কঠোর আইন জারি করেছে, যা শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

ইকুয়েডর সরকারও সীমান্তে কড়াকাড়ি আরোপ করেছে। তারা গত সপ্তাহে নতুন একটি নির্দেশ জারি করে পাসপোর্ট ছাড়া ভেনিজুয়েলার কোনো নাগরিককে ইকুয়েডরে প্রবেশ করতে দেবে না বলে জানিয়েছিল। যা শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশে শুক্রবার শেষমুহূর্তে তা আটকে গেছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ওই নির্দেশ স্বাধীনভাবে চলাচলের আঞ্চলিক যে চুক্তি আছে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি ভেনিজুয়েলীয় দেশ ছেড়েছে।

এদিকে পেরু সীমান্তে নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শত শত ভেনিজুয়েলীয় ইকুয়েডর-পেরু সীমান্তে আটকা পড়ে গেছে। তাদের একজন জনাথন জামব্রানো (১৮) বলেন, “গত পাঁচ দিন ধরে আমি অন্যদের মত রাস্তায় আছি।”শুক্রবার নতুন সীমান্ত আইন কার্যকরের আগে প্রায় আড়াই হাজার ভেনিজুয়েলীয় সীমান্ত পেরিয়ে পেরু প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ভেনিজুয়েলীয় ইকুয়েডর-পেরু সীমান্তে জড় হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় চার লাখ ভেনিজুয়েলীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে পেরু। যাদের বেশিরভাগই গত বছর এসেছে। শনিবার কার্যকর হওয়া নতুন আইনে পেরুতে প্রবেশ করতে হলে বৈধ পাসপোর্ট দেখাতে হবে। এরআগে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই ভেনিজুয়েলীয়দের প্রবেশ করতে দেওয়া হত। এদিকে ভেনিজুয়েলার শরণার্থীদের ঢল নিয়ে ইকুয়েডরের নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

জিয়ান্নেল্লা জারামিল্লো বলেন, “দুই ব্লক হাঁটলেই আপনি অন্তত ১০ জন ভেনিজুয়েলীয়কে দেখতে পাবেন। ইকুয়েডর নিজেই অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশ। নিজেদের সামান্য কিছু নিয়ে অন্য আরও অনেক মানুষকে সাহায্য করা কঠিন।” তবে এত হতাশার মধ্যেও ভেনিজুয়েলীয় শরণার্থীদের জন্য আশার কথা শুনিয়েছে ইউএনএইচসিআর। এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউরোপে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি তা এড়াতে ‘ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ভেনিজুয়েলার শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে রাজি’ হয়েছে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন