‘ইন্দোনেশিয়ায় এক হাজার মানুষ কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছেন’
ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা ১৬শ’র কাছাকাছি পৌঁছেছে
আল জাজিরা০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
‘ইন্দোনেশিয়ায় এক হাজার মানুষ কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছেন’

ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৬শ’র কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এখনো কমপক্ষে এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পালু শহরের বালারোয়া ও পেতোবো এলাকায় কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সুলাবেসি দ্বীপে ত্রাণ লুটের দায়ে কমপক্ষে ৯২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যত দিন যাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ সংখ্যা ১৬শ ছাড়িয়েছে। পালু শহরের বালারোয়া ও পেতোবো এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করছে।  ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সোতোপো পুরয়ো নুগরোহো জানান, পেতোবো থেকে ২৬ জন ও বালারোয়া থেকে ৪৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখব।’

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প ও সুনামির পর এলাকা দুটি মাটির তিন মিটার গভীরে চলে গেছে। পালুর পার্শ্ববর্তী এলাকা বালারোয়াতে ভূমিকম্পের সময় মাটি নরম হয়ে প্রায় ১৭০০ ঘর-বাড়ি দেবে গেছে। ভূমিকম্প পরবর্তী মাটির তরলীকণে মাটির অবস্থা এখনও এতটাই কর্দমাক্ত যে, সেখানে উদ্ধার তত্পরতা ব্যাহত হচ্ছে।

ভূমিধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে খুব ধীর গতিতে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সরকারি এক উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘আমরা যেভাবে পারছি ত্রাণ পৌঁছাচ্ছি। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয়।’ রাজধানী জাকার্তা থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূরবর্তী পালু শহরে ক্ষুধার যাতনায় ত্রাণবাহী গাড়ি ও বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালাচ্ছে স্থানীয় অধিবাসীরা। সুলাবেসি দ্বীপে ত্রাণ সামগ্রী লুটের দায়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরে পালু শহরে বিদ্যুত্ ফিরে এসেছে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে কিছু কিছু দোকান দুর্গতদের জন্য খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পালু শহরটিতে তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে ৭০ হাজার মানুষ এখনও আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন, তারা কবে নিজেদের আবাসে ফিরতে পারবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন