বিজ্ঞান ও টেক | The Daily Ittefaq

ই-লার্নিং ও ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা

ই-লার্নিং ও ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা
শাহাদাত হোসেন০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং ০৯:২৭ মিঃ
ই-লার্নিং ও ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা
বর্তমান সময়ে ই-লার্নিং খুবই আলোচিত একটি বিষয়। দেশে কিংবা বিদেশে, সবখানেই এর জয়জয়কার। ধরাবাঁধা শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে হওয়ায় দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই শিক্ষা ব্যবস্থাটি। 
 
প্রতিদিনই উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। আর এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত অনেক কিছুই। শিক্ষা ব্যবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। ইন্টারনেট আর কম্পিউটারের হাত ধরে এখানে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জ্ঞানার্জনের বিষয়টি এখন আর কোনোভাবেই দুই মলাটের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। একটি স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার আর সাথে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যেকোনো জায়গায় বসেই বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন আজকাল মামুলি ব্যাপার।
 
ই-লার্নিং কী?
মূলত প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ক্লাস করা কিংবা কোনো বিষয়ের উপর জ্ঞানার্জন করার পদ্ধতিই ই-লার্নিং নামে পরিচিত। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ই-লার্নিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ঘরে বসে সুবিধাজনক সময়ে পছন্দমতো বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু এখানে ধরাবাঁধা ক্লাসের ব্যাপারটি থাকে না, তাই সুবিধামতো সময়ে শেখার কাজটি চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
 
প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার থেকে অনেক দিক দিয়েই আলাদা ই-শিক্ষা ব্যবস্থা। সাধারণ মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ের উপর যখন পড়াশোনা করেন, তখন অন্য বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ কম থাকে। তবে ই-লার্নিং এর পুরোই ব্যতিক্রম। অন্যান্য পড়াশোনা কিংবা কাজের ফাঁকেও এখানে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কোথাও গিয়ে ক্লাস করতে হয় না। নিজের ঘরে বসেই ক্লাস করা সম্ভব।
 
বাংলাদেশে ই-লার্নিং
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-লার্নিংয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থের অভাবে কিংবা অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে অনেক শিক্ষার্থীই মাঝপথে পড়ালেখা ছাড়তে বাধ্য হয়। এ ছাড়া দেশের অনেক অঞ্চলেই এখনও সেভাবে শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এসকল স্থানে ই-লার্নিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সম্ভব। বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছে জনপ্রিয় অনেক ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে আছে লিন্ডা, কোর্সেরা, ইউডেমি, ইউডাসিটি প্রভৃতি। এর পাশাপাশি নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েরও আছে ই-লার্নিং ওয়েবসাইট যেখান থেকে ঘরে বসে যে কেউ তাদের বিভিন্ন কোর্সে অংশ নিয়ে সনদ লাভ করতে পারে।
 
ই-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বর্তমানে আমাদের দেশেও রয়েছে একাধিক ই-লার্নিং কার্যক্রম। এগুলোর মধ্যে আছে শিক্ষক ডট কম, জাগো অনলাইন স্কুল, টেন মিনিট স্কুল প্রভৃতি। এ ছাড়া সম্প্রতি জনপ্রিয় খান একাডেমির বিভিন্ন কোর্স বাংলায় অনুবাদ করার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। এ মাসে চালু হয়েছে অপর ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম মুক্তপাঠ।
 
মুক্তপাঠ
সম্প্রতি ই-লার্নিং নিয়ে এগিয়ে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। ‘শিখুন...যখন যেখানে ইচ্ছে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘মুক্তপাঠ’ নামের একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে এই প্রকল্পের অধীনে। আগ্রহী সবার জন্যই এই প্ল্যাটফর্মে থাকছে সমান সুযোগ। যে কেউ নিজেদের পছন্দমতো কোর্সে এখান থেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। মুক্তপাঠ শুরু করা হয়েছে শিক্ষকদের জন্য ‘মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি’ নামক একটি অনলাইন কোর্স দিয়ে। বাংলা ভাষায় প্রস্তুতকৃত এই কোর্সের উপকরণের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রায় ৮ লক্ষের অধিক শিক্ষকগণ তাদের ঘরে বসে সুবিধাজনক সময়ে বিনা পয়সায় এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। এই কোর্সে অন্তর্ভূক্ত আছে কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ। আর সফলভাবে কোর্স শেষ করে সনদ লাভের ব্যবস্থাও আছে। এই সনদের বদৌলতে শিক্ষকগণ বিভিন্ন রকম পেশাগত সুযোগ লাভ করবেন। এমনকি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ‘মুক্তপাঠ’ প্লাটফর্ম থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।  এই উন্মুক্ত ই-লার্নিং প্লাটফর্ম থেকে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষাবিষয়ক কোর্স বিনামূল্যে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা www.muktopaath.gov.bd
 
খান একাডেমি
অনলাইনে জ্ঞানার্জনের কথা বললেই উঠে আসে খান একাডেমির নাম। বর্তমানে অনলাইনে বিনামূল্যে জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম খান একাডেমি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান ২০০৬ সালে সারা বিশ্বে সবার জন্য বিনামূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে চালু করেন খান একাডেমি। সব বয়সের শিক্ষার্থীর জন্য খান একাডেমি বিনামূল্যে বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষা উপকরণ, শিখন সামগ্রী এবং স্বশিক্ষা সহায়ক উপকরণ প্রদান করে থাকে। শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরে এবং বাইরে সব শিক্ষার্থী যেন তাদের নিজস্ব গতিতে শিখতে পারে সে লক্ষ্যে খান একাডেমির ওয়েবসাইটে রয়েছে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক চর্চামূলক অনুশীলনী, নির্দেশনামূলক ভিডিও, ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড এবং শিক্ষক সহায়িকা। একাডেমির নিজের ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের মাধ্যমে ৩ হাজার ১০০ এরও বেশি বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে খান একাডেমির। মূলত খান একাডেমির বিভিন্ন কোর্স ইংরেজিতে রয়েছে। তবে গত বছর এখানকার ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলো বাংলায় অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
শিক্ষক ডট কম
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট হলো শিক্ষক ডট কম। প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে রান্না, সব বিষয়ের উপরই এখানে রয়েছে ভিডিও কোর্স। এ ছাড়া দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও এখানে আছে বিভিন্ন পাঠ্যবইভিত্তিক ভিডিও কোর্স, যেখানে বইয়ের বিভিন্ন পাঠ সহজভাবে তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রায় সব বিষয়ের উপর কোর্স থাকলেও কম্পিউটার এবং প্রোগ্রামিং বিষয়ের উপর এখানে রয়েছে প্রচুর ভিডিও কোর্স। এসব কোর্সে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আগ্রহী যে কেউ নিজেকে এসব বিষয়ের উপর দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন।
 
টেন মিনিট স্কুল
এই ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মটির বিশেষত্ব হলো এখানে যেকোনো বিষয়কে ১০ মিনিটের মাঝেই আয়ত্ত করা সম্ভব। আর এখানে কোর্স করার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না, অর্থাত্ এটি একটি বিনামূল্যের ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এখানে ১০ মিনিটের ছোট ছোট কুইজ পরীক্ষা দেওয়া যায়, যেটা সাথে সাথেই প্রাপ্ত নম্বর প্রদান করে উক্ত বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীর কতটুকু দখল আছে তা জানিয়ে দেয় এবং কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে তাও জানায় এবং উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদান করে। পাশাপাশি অন্য ১০ মিনিট স্কুল ব্যবহারকারী বন্ধুদের সাথে তুলনা করে শিক্ষার্থী কতটুকু এগিয়ে বা পিছিয়ে আছে তা জানিয়ে দেয়। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা 10minuteschool.com
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০