অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

গ্যাসের দাম বাড়ছে না

গ্যাসের দাম বাড়ছে না
এলএনজি আমদানি বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়বে
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১১:০০ মিঃ
গ্যাসের দাম বাড়ছে না
 
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোক্তা পর্যায়ে কোন ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ছে না। জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবেশের কারণে যতটুকু খরচ বেড়েছে তা শুল্ক-কর মওকুফ এবং ভর্তুকির মাধ্যমে পুষিয়ে নিবে সরকার। এতটুকু সক্ষমতা জ্বালানি খাতের রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়বে।
 
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাংবাদিক সম্মেলনে এমন তথ্য ও   বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। রাজধানীর কাওরান বাজারে টিসিবি ভবনে বিইআরসির শুনানি কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশন সদস্য আবদুল আজিজ খান জানান, সরকার এলএনজি আমদানির কারণে বেড়ে যাওয়া খরচের বিপরীতে অর্থ সংস্থানের দায়িত্ব নিয়েছে। এজন্য চলতি অর্থ বছরে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন। সেটি সরকার করবে। তাই এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না।
 
গতকাল জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বিইআরসি জানায়, নিরাপত্তা জামানতের পরিমাণ তিন মাসের পরিবর্তে ২ মাসের, ছয় মাসের পরিবর্তে ৪ মাসের বিলের সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিপেইড মিটার গ্রাহকের আর নিরাপত্তা জামানত দিতে হবে না। গ্যাসের বিলের কাগজে গ্যাসের মূল্যহার, ঘনমিটারে ঘণ্টা প্রতি ও মাসিক অনুমোদিত লোড, চালনা ধাঁচ (দৈনিক কর্মঘণ্টা এবং মাসিক কার্য দিবস), ডায়ভারসিটি ফ্যাক্টর ও সরবরাহ চাপ (পিএসআইজি) উল্লেখ থাকতে হবে। সকল গ্যাস ব্যবহারকারী সরবরাহ মাসের পরবর্তী মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত বিলম্ব মাসুল ছাড়া বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এই সময় সীমার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে গ্রাহকের কাছে বিতরণকারী কোম্পানিকে বিল পৌঁছাতে হবে। ক্যাপ্টিভ পাওয়ার এবং শিল্প গ্রাহকের কোজেনারেশন স্কিম অব্যাহতভাবে তিন মাস চালু থাকলে পরের তিন মাসের মধ্যে ওই গ্রাহকের তিন মাসের মোট বিলের ( সারচার্জ বা বিলম্ব মাসুল ব্যতীত) ওপর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ছাড় (রিবেট) প্রদান করা হবে।
 
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এলএনজি ব্যবহারের সিদ্ধান্তের পর থেকেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরআগে বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো গড়ে ৭৫ ভাগ দাম বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে কমিশনে আসে। কমিশন ওই আবেদনের শুনানির পর এলএনজি আমদানিতে আর্থিক সংকট দূর করতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মতামত দেয়।
 
নানামুখী বিশ্লেষণের মধ্যে গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য গেলে বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর বিইআরসি দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
 
গতকাল বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ১৭ মার্চ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) কমিশনে সঞ্চালন ট্যারিফ বৃদ্ধির আবেদন করে। এরপর ২০ মার্চ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস, বাখরাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও কর্ণফুলী এবং ২১ মার্চ জালালাবাদ ও সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি পৃথকভাবে তাদের বিতরণ চার্জসহ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করে। কমিশন আবেদনগুলো বিবেচনা করে জুনে শুনানি করে। গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিইআরসি রেগুলেটরি আইন ২০০৩ এর ধারা ২২ (খ) এবং ৩৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যমান মূল্যহার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জারি করা ২৬ সেপ্টেম্বরের এসআরও এর মাধ্যমে ১৮ সেপ্টেম্বর  থেকে এলএনজি আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ওই বিভাগের জারি করা ৩ অক্টোবরের আলাদা দুটি এসআরও-এর মাধ্যমে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর ও অগ্রিম মূসক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান গ্যাসের মূল্যহার পুননির্ধারণ, বিবরণী সংশোধন করে কমিশন আদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১