সারাদেশ | The Daily Ittefaq

১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার ‘মৃত’ সাথী খাতুন

১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার ‘মৃত’ সাথী খাতুন
যশোর অফিস০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২০:৫৩ মিঃ
১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার ‘মৃত’ সাথী খাতুন
উদ্ধারের পর বাবার সঙ্গে সাথী খাতুন
সাথী খাতুনের কথিত লাশ উদ্ধারের ১১ দিন পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। ঘটনাটি যশোরের চৌগাছার।
 
রবিবার ভোরের দিকে প্রেমিকের ধর্মপিতা সদর উপজেলার ইছালি এলাকার জলকর গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সাথী খাতুনকে। সাথী চৌগাছার নয়ড়া গ্রামের আমজেদ আলীর মেয়ে। আর একই উপজেলা চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। তাদের এহসান নামে ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
 
সাথীর ভাই বিপ্লব হোসেন জানান, গত ১৪ জুলাই ‘বাইরে কাজে যাচ্ছি, বিকালে ফিরে আসবো’ বলে বাড়ি থেকে বের হয় সাথী। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান ছিল না। ফলে তার বাবা আমজাদ আলী চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 
 
এদিকে ২৯ আগস্ট রাতে যশোরে সরকারি সিটি কলেজ এলাকা থেকে পলিথিন মোড়ানো অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লাশ উদ্ধারের খবরের পরদিন ৩০ আগস্ট যশোর কোতোয়ালি থানায় ছুটে যান সাথীর বাবা আমজেদ আলী। তিনি ‘অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি’ তার মেয়ে সাথী খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। 
 
বিপ্লব হোসেন দাবি করেন, তার বাবা লাশ দেখে হতবিহবল হয়ে তাৎক্ষণিক লাশটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এ নিয়ে তদন্ত হলে তিনি জানতে পারেন তার ভুল হয়েছে। 
 
এদিকে সাথীর বাবা লাশ শনাক্ত করায় পুলিশ সাথী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। 
 
যশোর কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুজ্জামান জানান, পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে সাথী খুন হয়নি। জীবিত আছে। সে প্রেমিক মান্নুর ধর্মপিতা সদরের ইছালি এলাকার জলকার গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়িতে অবস্থান করছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তাকে উদ্ধারের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এসআই আমিরুজ্জামান আরও জানান, স্বামী গোলাম মোস্তফার বাল্যবন্ধু মালয়েশিয়া প্রবাসী মান্নুর সঙ্গে সাথী খাতুনের পরকীয়ার সম্পর্ক হয়। গত ১৬ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে ভারতে যায় সাথী। ওই সময় মান্নুও মালয়েশিয়া থেকে ভারতে যায়। সেখানে তারা ৮ দিন অবস্থানের পর দেশে ফিরে আসে। এরপর আরও একমাস সাথীকে নিয়ে মান্নু তার ধর্মপিতা আজিজ লস্করের বাড়িতে থাকে। এপ্রিলে মান্নু আবার মালয়েশিয়া ফিরে গেলে সাথী বাড়ি ফেরে আসে। তখন সে পরিবারকে  জানায়, ‘এতদিন সে ভারতেই ছিল।’
 
এ ঘটনার পর গত ১৪ জুলাই ফের বাড়ি ছাড়ে সাথী। বাড়ি থেকে বের হয়ে মান্নুর ধর্মপিতা আজিজ লস্করের বাড়িতে উঠে। তার কথিত লাশ উদ্ধারের খবর ও ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর ওই এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর পুলিশ সাথীর সন্ধান পায়।
 
এসআই আমিরুজ্জামান আরও জানান, এখন তারা ‘অজ্ঞাতপরিচয় ওই লাশটি কার’ তা নিয়েও তদন্ত করবেন। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০