সারাদেশ | The Daily Ittefaq

গাছের সঙ্গে বেঁধে কলেজছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ধুম্রজাল

গাছের সঙ্গে বেঁধে কলেজছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ধুম্রজাল
লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা০৪ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২১:১৪ মিঃ
গাছের সঙ্গে বেঁধে কলেজছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ধুম্রজাল
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুর ছড়ায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে কলেজছাত্রী জোহরা বেগম কাজলকে (১৮) গাছের সঙ্গে বেঁধে ও তার বাবা-মাকে নির্যাতন করার ঘটনায় তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। 
 
 
আহত ছফুরা খাতুনের (৫০) নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজল ও তার বাবা আব্দুল করিম (৫৫) চিকিৎসাধীন আছেন। 
 
 
 
গত মঙ্গলবার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুর ছড়ায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে কলেজছাত্রী ও তার বাবা-মাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় মো. আলী হোসেন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জোহরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আব্দুর রশিদ বাদশাকে জামিন প্রদান করা হয়েছে। অপর গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ফারুককে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
মামলার এজাহারের বর্ণনায় জানা গেছে, ফাইতং মৌজায় আর/৩২৪নং হোল্ডিং এর ভূমি নিয়ে মো. ফারুক ও আব্দুল করিম গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ চলে আসছে। 
 
ভূমি বিরোধের ঘটনায় বান্দরবান বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অপর মামলা নং- ১৯/২০১৮ চলমান রয়েছে। ঘটনার দিন ফারুক গং বিরোধীয় জায়গায় গাছের চারা রোপণ করে দখলের চেষ্টা করলে আব্দুল করিম গং বাধা দেয়। 
 
আহত কলেজছাত্রী জোহরা বেগম কাজল জানান, প্রতিপক্ষ মো. ফারুক, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. বারেক গং- এর নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু লোকজন বিরোধী জায়গা দখল করতে এসে তার মা এবং বাবাকে রশি দিয়ে বেধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। বাধা দিলে তারা তাকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেধে লাথি এবং কিল ঘুষি মারে। চুলের মুঠি ধরে টানা হেঁচড়া করে পরনের কাপড় টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতা হানি ঘটায়। 
 
জোহরা আরো জানান, তার বাবা-মাকে সীমাহীন নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 
 
ফাইতং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হেলাল জানান, বহিরাগত লোকজন এসে জোহরা বেগমদের উপর নির্যাতন করেছে। 
 
আসামি মো. ফারুকের স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, ভিডিও এবং ছবির ঘটনা সত্য নয়। ভিডিওটি ভালো করে যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বের হবে। 
 
ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. হানিফ জানান, ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে রশি দিয়ে কলেজছাত্রী ও তার বাবা-মাকে নির্যাতন করার দাবি সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে নির্যাতনের শিকারদের দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যারা নির্যাতন করেছে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং ভিডিওটি প্রশ্নবিদ্ধ। ঘটনাটি মেকিং বলে মনে করছেন পুলিশ ফাঁড়ির আইসি। 
 
চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুবন জানান, ভর্তিকৃত জোহরা বেগমের শরীরে নারী এবং শিশু নির্যাতনের আওতায় পড়ে এমন কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। 
 
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, ঘটনাস্থলের আশেপাশে কোন লোকজনের বসবাস নেই। মামলার বর্ণনামতে আসামিদের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণকৃত ভিডিওতে আসামিদের ছবি নেই কেন? পুরো বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০০
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯