সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মেয়েটি মারা যাচ্ছিলো দেখেও শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়েনি: শিশুর মা

মেয়েটি মারা যাচ্ছিলো দেখেও শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়েনি: শিশুর মা
মেয়েটি মারা যাচ্ছিলো দেখেও শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়েনি: শিশুর মা
নিহত শিশু মা সায়রা বেগম। ছবি: ইত্তেফাক
‘শ্রমিকদের বলেছি আমার বাচ্চাটা খুব অসুস্থ। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। আমি দেখছি আমার বাচ্চাটা মারা যাচ্ছে। আমার বাচ্চাটার কষ্ট হচ্ছে। আমাদের গাড়িটা ছেড়ে দেন। তারা উল্টো বলে কিসের রোগী? একেকজন শ্রমিক একেক কথা বলে। আমাদের ধমক দেয়। ড্রাইভারকে বলেছি আমাকে নামিয়ে দেন আমি হেটে যাব। আমার চোখের সামনে মেয়েটা ওখানেই মারা গেছে।’ সোমবার দুপুরে এভাবেই বলছিলেন পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটের সময় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় মারা যাওয়া ৭দিনের কন্যাশিশুর মা সায়রা বেগম।
 
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, শোকাহাত মা বাবাকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছে এলাকাবাসীরা। শ্রমিক ধর্মঘটে বলি হওয়া এই শিশুর করুণ মৃত্যুতে ঘৃণা জানাচ্ছেন লোকজন।
 
নিহত শিশুর বাবা কুটন মিয়া বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে পুরাতন বড়লেখা বাজারে ড্রাইভারের কাগজপত্র ও আমার বাচ্চার কাগজপত্র চেক করছে। অনেক অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা ছাড়ে নি। আধাঘণ্টা পরে ছাড়ছে। সেখান থেকে থাকি দাসেরবাজার গিয়ে আটকা পড়ি। তারা গাড়ি ব্যারিকেড দেয়। এখানেও কাগজপত্র দেখে ছাড়েনি। অনেক উত্তেজনা করেছে। গাড়ি থেকে ড্রাইভারকে টেনে নামিয়েছে। তাকে মারধর করেছে। অনেক অনুরোধ করেছি। তারা ছাড়েনি। তাদের ইচ্ছামত পরে ছাড়ছে। চান্দগ্রাম যাওয়ার পরে আবার আটকিয়েছে। অনেক অনুরোধ করলাম। এখানেও ছাড়েনি। দেড় ঘণ্টার মত রাখছে। খুব অনুরোধ করার পর ৫০০ টাকা দাবি করছে। তখন আমি আমার পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করি। তারা বলে তুমি দিলে হবে না। ড্রাইভার দিতে হবে। এরই মাঝে আমার মেয়েটা মারা যায়। তারপর যখন তারা গাড়িতে এসে দেখেছে বাচ্চা মারা গেছে। তখন তারা গাড়িসহ বাচ্চা ছাড়ছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। কিসের জন্য রাস্তা অবরোধ করে আমার বাচ্চাটা মারলো। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে নিহত শিশু
অ্যাম্বুলেন্স চালক শিপন আহমদ বলেন, ‘আমি হাসপাতাল থেকে টিপ (ট্রিপ) নিয়ে পুরাতন বড়লেখা যাই। পুরাতন বড়লেখা বাজারে ৫ থেকে ৬ জন আটকায়। তারা যাইতে দেয় না। তারা বলেছে বিয়ার অনুষ্ঠানে যাচ্ছো। কাগজপত্র দেখিয়েছি। তারপর ছাড়ছে। এরপর দাসেরবাজার আটকাইছে। দাসেরবাজারে খুব বেশিক্ষণ আটকিয়ে রেখেছে। প্রায় আধা ঘণ্টার মত। আমার কলার ধরে টানাটানি করেছে। কাগজপত্র দেখতে চেয়েছে। কাগজপত্র দেখিয়েছি। বাচ্চার ছাড়পত্রও দেখিয়েছি। তাও ছাড়ের না। পরে চান্দগ্রাম গেলে সেখানেও আটকায়। সেখানে বাচ্চার বাবার কাছে একজন ৫০০ টাকা দাবি করে। বলেছে ৫০০ টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাও। তারা চাঁদা দাবি করেছে। তাদের দেখলে চিনব। এদের মাঝে কিছু সিএনজি ড্রাইভারও আছেন।’ 
 
বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিশুটির পরিবার আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তাঁদের সার্বিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। শ্রমিক ধর্মঘটের নামে এই অযৌক্তিক আন্দোলন দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
 
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমরা শিশুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
প্রসঙ্গত, রবিবার বড়লেখা থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড়লেখা উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী কুটন মিয়ার ৭দিনের কন্যাশিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবহন শ্রমিকরা চান্দগ্রামে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এতে চান্দগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ জানুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪২
এশা৬:৫৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৭