সারাদেশ | The Daily Ittefaq

‘বাবা আমাদের জন্য মাত্র ৭ হাজার ২৫০ টাকা রেখে গিয়েছিলেন’

‘বাবা আমাদের জন্য মাত্র ৭ হাজার ২৫০ টাকা রেখে গিয়েছিলেন’
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২১:৪০ মিঃ
‘বাবা আমাদের জন্য মাত্র ৭ হাজার ২৫০ টাকা রেখে গিয়েছিলেন’
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: ইত্তেফাক
প্রয়াত পিতা, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার স্মৃতিচারণ করে তার সুযোগ্য সন্তান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘বাবা আমার মাকে জেলখানায় দুইবার বলেছিলেন, ‘পলির মা, আমি তো একটি মেয়েরও বিয়ে দিতে পারলাম না। ছেলে দুটো ইন্ডিয়াতে আছে, পড়াশোনা করছে, ওদের নিয়ে ভাবছি না। কিন্তু একটি মেয়েরও বিয়ে দিতে পারলাম না। এই মেয়েগুলোর বিয়ের ব্যবস্থা তোমাকেই করতে হবে। আমার অনেক বন্ধু আছে, শুভাকাঙ্খী আছে, বিয়ে আটকাবে না।’ যে মানুষটির হাত দিয়ে কোটি কোটি নগদ টাকা, গুড়ো দুধ, কম্বলসহ কত ত্রাণসামগ্রী ১৯৭২ সালে বিতরণ করা হলো, সেই মানুষটি বলছেন, আমাদের মেয়েদের বিয়ে তোমাকে দিতে হবে। অর্থাৎ নিজের কাছে সঞ্চয় নেই, তিনি রাখেননি কখনো। শুধু তিনি নন, এমন ছিল জাতীয় চার নেতার প্রত্যেকের চরিত্র।’
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও মূলবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
 
মেয়র লিটন আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার পিতা শহীদ হলেও আমি ১৯৮০ সালে ইন্ডিয়া থেকে দেশে আসি। বাড়িতে আসার পর কৌতুহলবসত বাবার কাগজপত্র খুঁজছিলাম। খুঁজতে খুঁজতে মাত্র দুইটি ব্যাংকের চেক বই পেলাম। চেক বইয়ে মাত্র কয়েকটি করে পাতা আছে। ব্যাংক দুইটির শাখায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, দুইটি ব্যাংকে মোট ৭ হাজার ২৫০ টাকা আছে। শহীদ কামারুজ্জামান তার পরিবারের জন্য রেখে গেছেন ৭ হাজার ২৫০ টাকা। তিনি ওই সময় সাতশ কোটি টাকাও রেখে যেতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, জাতীয় চার নেতার প্রত্যেক পরিবারের এমন অবস্থা।’
 
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এই সেই বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ গড়তে, আমাদের বাবার শুধু জীবন চলে গেছে তাই নয়, আমাদের জীবনেরও একটা বড় সময় চলে গেছে। আমি যদি বলি, ১৯৭৫ থেকে ৯৬ এই ২১ বছর আমাকে ফিরিয়ে দাও, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বলেন, আমাকে ওই ২১টি বছর ফিরিয়ে দাও, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে যদি এক কোটি মানুষ বলে আমাকে আমার ওই সময় ফিরেয়ে দাও। ফিরিয়ে দিতে পারবেন কেউ? সেই সময় আর পাওয়া যাবে না। তবে সুখের বিষয় অন্তত দেখে যাচ্ছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন দিয়ে যাচ্ছেন। আমি আমার ক্ষুদ্র পরিসরে উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি উন্নত রাজশাহী গড়তে চাই।
 
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এই রাজশাহীর মানুষের জন্য আমার পিতা কত স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমিও স্বপ্ন দেখেছি। আমার ৫ বছর আমি পিছিয়ে গেলাম, পারলাম না রাজশাহীর জন্যে কিছু করতে। কী অপরাধ ছিল জানি না, কেন আমাকে ২০১৩ সালে মানুষ ভোট দেননি জানি না। গত ৫ বছরে সারাদেশ উন্নত হলো, আমি রাজশাহীকে উন্নত করতে পারলাম না। ভুল বুঝে ৫ বছর মানুষ আমাকে সুযোগ দিলো না। সুযোগ পেলে এতোদিন রাজশাহী আরো কত উন্নত হতো। তবে এবার আবার সুযোগ দিয়েছে মানুষ। সবার সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর উন্নত রাজশাহী গড়তে চাই।
 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় রক্ষায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।
 
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শকে মুছে ফেলতে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা মানে একজন ব্যক্তি মানুষকে হত্যা করা নয়। আদর্শকে হত্যা করার জন্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাতে কেউ এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য জাতীয় চার নেতাকে কারাগারের নিরাপদ জায়গায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক প্রফেসর এম মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া বক্তব্য দেন। 
 
এ সময় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. লায়লা আরজুমান বানু, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার, প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১২ জুলাই, ২০২০ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭