সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মির্জাপুরে গায়েবী মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে

মির্জাপুরে গায়েবী মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা১১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮:৫২ মিঃ
মির্জাপুরে গায়েবী মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুইবারের নির্বাচিত বিএনপির সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে নাশকতা ও পরিকল্পনা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বিএনপি।পুলিশের গায়েবী, নাশকতা ও পরিকল্পনাকারী মামলায় বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সংকটসহ নানা জটিলতায় পড়েছে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপি। প্রভাবশালী কোনো নেতাকে মির্জাপুরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে বাড়ি বাড়ি তল্লাসি করছে বলে তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছে।
 
গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। আজ রবিবার বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় এখন আমরা এলাকা ছাড়া। পুলিশের গ্রেফতারে কোন নেতাকর্মী রাস্তায় বের হতে এমনকি বাড়িতেও থাকতে পারছে না।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নের্তৃত্ব দিয়ে আসছেন দুই নির্বাচিত সাংসদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের গত নয় বছরে তিনি মির্জাপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের একত্রিত ও সুসংগঠিত রেখে আন্দোলন সংগ্রাম ও সভা সমাবেশ করে আসছেন। সেই সঙ্গে পৌর ও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করেছেন। গত মঙ্গলবার ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি নাশকতা ও পরিকল্পনা মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন।
 
তিনি গ্রেফতারের পর বিএনপি এখন অভিভাবকহীন ও নের্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে মির্জাপুর থানায় নাশকতা ও পরিকল্পনার একাধিক মামলা হওয়ায় আরও বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন এলাকাছাড়া বলে ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফরিদ মিয়াসহ একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
 
এদিকে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও বিএনপির একাধিক নেতা জানান, নাশকতা ও পরিকল্পনা মামলায় আজ রবিবার পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর মো. আলী আজম সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, ওয়ার্শি, আনাইতারা, বহুরিয়া, ভাদগ্রাম, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল ও বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ অধিকাংশ নেতাকর্মীর নামে গায়েবী ও নাশকতা পরিকল্পনার মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। 
 
যারা আত্মগোপনে রয়েছেন তারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম নয়া, সহ সভাপতি মো. আবদুল কাদের মিয়া, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ফরিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হযরত আলী মিঞা, সাধারণ সম্পাদক মো, জুলহাস মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলী আজম সিদ্দিকী, শ্রমিকদলের সভাপতি মো. কুব্বত ্আলী মৃধা, শ্রমিকদলের নেতা মো. আনোয়ার পারভেজ শাহআলম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফরিদ মিয়া, সাধারন সম্পাদক মো. মঞ্জুর এলাহী অঞ্জন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা জীবন, সাধারন সম্পাদক ডি এ মতিন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মো. হাসান সিদ্দিকী, সাধারন সম্পাদক মো. সেলিম মিয়াসহ বিএনপির প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয়ে তাদের এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, পুলিশ গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নামে বেনামে গায়েবী, নাশকতা ও পরিকল্পনার মামলা ঠুকে দিয়েছে। যারা এলাকায় থাকেন না তাদের নামেও মামলা দিয়েছে। তিনি মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, কাউকে হয়রানী ও উদ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরই তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৫০
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৮
সূর্যোদয় - ৫:১৪সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩